পর্যটন খাতের বিকাশে বেসরকারি বিনিয়োগ ও পিপিপিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিবে সরকার: বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত


দেশের পর্যটন খাতের টেকসই বিকাশ ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) ব্যবস্থার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের (এটিএফ) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ভ্রমণবিষয়ক সাময়িকী ‘পর্যটন বিচিত্রা’ তিন দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, দেশের নতুন পর্যটননীতিতে বেসরকারি বিনিয়োগ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পর্যটন খাতের উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি খাতের পাশাপাশি স্থানীয় সম্প্রদায়কেও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ অঙ্গীকার ছাড়া দেশের পর্যটন খাতের কাঙ্ক্ষিত বিকাশ সম্ভব নয়। তাই পর্যটনের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সব পক্ষকে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
পর্যটন খাতের উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার আহ্বান জানিয়ে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘কাজ শুরু করতে হবে আজ থেকেই, আগামীকালের জন্য অপেক্ষা করা যাবে না।’ দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে দেশের মানুষকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান প্রায় ২ থেকে ৩ শতাংশ। এই অবদান ৮ থেকে ৯ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ শুরু করেছে।
কক্সবাজারকে কেন্দ্র করে সরকারের বিশেষ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কক্সবাজারকে একটি আঞ্চলিক পর্যটন হাবে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নবনির্মিত কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে আন্তর্জাতিক ও বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করা।
তিনি আরও বলেন, সমুদ্রসৈকতে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সুবিধা নিশ্চিত করতে ফ্রেশ ওয়াটার শাওয়ার, চেঞ্জিং রুম, লকার, নাইট লাইটিং বা সোলার লাইট, ট্যুরিস্ট পুলিশ, রেসকিউ টিম এবং প্রাথমিক চিকিৎসাসহ সমন্বিত সেবা নিশ্চিত করা হবে। এর মাধ্যমে পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করা হবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের ২০০টিরও বেশি পর্যটন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩০০টি স্টল নিয়ে এবারের এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মেলায় হোটেল, রিসোর্ট, এয়ারলাইন্স, ট্যুর অপারেটর ও ট্রাভেল এজেন্সিগুলো তাদের বিভিন্ন পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করছে।
এবারের মেলায় পার্টনার কান্ট্রি হিসেবে রয়েছে থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন ও মালদ্বীপ। আর টাইটেল স্পন্সর হিসেবে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।











