বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে জাপানি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিজিএমইএর মতবিনিময়


বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (RMG) শিল্পের ভবিষ্যৎ, টেকসই উৎপাদন, শ্রমিক কল্যাণ ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন নিয়ে জাপানের দোশিশা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইয়োকো নিমি ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)।
সম্প্রতি বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় বিজিএমইএর জাপান কমিটির পরিচালক ও সমন্বয়কারী মোহাম্মদ সোহেলের নেতৃত্বে সংগঠনের সচিবালয়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

আলোচনায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে টেকসই উৎপাদনে অগ্রগতি, শ্রমিক কল্যাণ, ডিজিটাল উদ্ভাবন এবং সরবরাহ চেইনে স্বচ্ছতা বৃদ্ধির বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরা হয়। এ সময় বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের টেকসই উৎপাদনে নেতৃত্বের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। বর্তমানে দেশে ২৯১টিরও বেশি LEED-সনদপ্রাপ্ত গ্রিন কারখানা রয়েছে, যা পরিবেশবান্ধব উৎপাদনে বাংলাদেশের সক্ষমতার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
মতবিনিময়ে নৈতিক অংশীদারত্ব, ন্যায্য মূল্য এবং পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। বৈশ্বিক পোশাকশিল্পে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সম্পর্ক গড়ে তুলতে ক্রেতা, উৎপাদক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে ন্যায্যতা ও দায়িত্বশীল অংশীদারত্ব নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
অধ্যাপক ইয়োকো নিমি বিজিএমইএর সঙ্গে এ ধরনের অর্থবহ আলোচনার জন্য appreciation প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, টেকসই উৎপাদন, শ্রমিক কল্যাণ ও শিল্পে নতুন সম্ভাবনা তৈরির এসব উদ্যোগ বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক ও একাডেমিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে।
এ সময় বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (EPA)-কে ঘিরে তৈরি হওয়া নতুন সম্ভাবনার কথাও আলোচনায় উঠে আসে। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, EPA-ভিত্তিক বর্ধিত বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ দুই দেশের শিল্প, ব্যবসা ও শিক্ষা খাতের মধ্যে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত করবে।
মতবিনিময় সভাটি বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে শিল্প, শিক্ষা ও জ্ঞান বিনিময়ের পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ‘উইন-উইন’ সহযোগিতা জোরদারে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।











