বাংলাদেশের পণ্য আমদানি বাড়াতে ইন্দোনেশিয়ার প্রতি আহ্বান পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবিরের


বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, পর্যটন এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বের, ২০২৬) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত লিস্তিওয়াতি সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও ব্যবসা, জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, পর্যটন, সাংস্কৃতিক বিনিময়, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ, কনস্যুলার বিষয়, উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময় এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবির দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যকে আরও গভীর ও বহুমুখী করতে ইন্দোনেশিয়াকে বাংলাদেশি পণ্য ও সেবা আমদানি বাড়ানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ককে একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (CEPA)-এর দিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রস্তুতির কথা জানান।
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ইন্দোনেশিয়ার ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করারও অনুরোধ জানান প্রতিমন্ত্রী। এর মাধ্যমে পর্যটন, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়বে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জবাবে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ থেকে ইন্দোনেশিয়ায় রপ্তানি বহুমুখীকরণে তার দেশের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের ওষুধসহ বিভিন্ন পণ্য ইন্দোনেশিয়ার বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে তিনি সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী হুমাইউন কবির। এ প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়ে রাষ্ট্রদূত লিস্তিওয়াতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় জ্ঞান বিনিময়, সর্বোত্তম অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় বাংলাদেশকে আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার পাশাপাশি রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (RCEP)-এ যোগদানের আকাঙ্ক্ষায় ইন্দোনেশিয়ার সমর্থন কামনা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
রাষ্ট্রদূত লিস্তিওয়াতি এ গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলোতে বাংলাদেশের প্রতি ইন্দোনেশিয়ার অব্যাহত সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাৎ শেষে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।











