ঢাকায় ২৯ অক্টোবর শুরু হচ্ছে ১৪তম বিটিটিএফ, অংশ নেবে ২০টির বেশি দেশ


দেশের পর্যটন খাতের অন্যতম বৃহৎ আয়োজন ১৪তম বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) ২০২৬ আগামী ২৯ অক্টোবর ঢাকায় শুরু হচ্ছে। তিন দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। এবারের মেলার টাইটেল স্পন্সর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।
সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মেলার আয়োজন ও প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ।

তিনি জানান, বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) এবারের বিটিটিএফ অনুষ্ঠিত হবে। এতে ২০টির বেশি দেশের পর্যটন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, ট্যুর অপারেটর ও ট্রাভেল এজেন্সির প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে নেপাল, ভারত, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ ও ফিলিপাইন তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে। এছাড়া তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ব্রুনেই, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও আজারবাইজান থেকেও অংশগ্রহণকারীরা মেলায় যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

মেলার টাইটেল স্পন্সর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, বিটিটিএফ বাংলাদেশের এভিয়েশন ও পর্যটন শিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দেশের এভিয়েশন খাতের বর্তমান অগ্রগতিতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের আকাশপথের শেয়ারের ২০ থেকে ২২ শতাংশ বর্তমানে দেশের হাতে রয়েছে। এর পেছনে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ভূমিকা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি না থাকলে এ শেয়ার ১০ শতাংশের নিচে নেমে যেত বলেও দাবি করেন তিনি।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে কামরুল ইসলাম জানান, শিগগিরই ব্রুনেই, বাহরাইন, কুয়েত, সালালা, পেনাং ও জোহর বাহরুর মতো গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক রুটের নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
![]() |
![]() |
![]() |
![]() |
তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে লন্ডন, রোম, নিউইয়র্ক ও টরন্টোর মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের।
টোয়াবের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এবারের মেলার লক্ষ্য হচ্ছে দেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ে পর্যটন সহযোগিতা সম্প্রসারণ করা। একই ছাদের নিচে ট্যুর অপারেটর, এয়ারলাইন্স, হোটেল, পর্যটন বোর্ড, ট্রাভেল এজেন্সি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে আসার মাধ্যমে ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে বলে আয়োজকদের প্রত্যাশা।

আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিটিটিএফ ২০২৬-এ ২০০টির বেশি বুথ ও স্টল থাকবে। এতে ২২০টির বেশি একজিবিটর, ২৫০-এর বেশি কোয়ালিফাইড বায়ার, প্রায় ২ হাজার ৫০০ ট্রেড ভিজিটর এবং ৬০ হাজারের বেশি দর্শনার্থীর সমাগম হতে পারে। চারটি থিমভিত্তিক প্রদর্শনী হলে ২০০টির বেশি এয়ারলাইন্স, হোটেল ও ট্যুর অপারেটর অংশ নেবে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, দেশি-বিদেশি পর্যটন অংশীজনদের সরাসরি যোগাযোগ, ব্যবসায়িক চুক্তি ও পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করে বিটিটিএফ ২০২৬ বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ভূমিকা রাখবে।















