অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার রোধে ফ্রান্সের সঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ


বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার এবং দুই দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়দ ইসলাম এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ফ্রান্সের তিন সদস্যের একটি সিনেটর প্রতিনিধি দল। বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ-ফ্রান্স সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। বিশেষ করে দুই দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও পারস্পরিক যোগাযোগ আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ফরাসি প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ফরাসি সিনেটের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা আরও গভীর করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ ক্ষেত্রে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ)-এর মতো প্ল্যাটফর্মে দুই দেশের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে আরও বেশি যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

শামা ওবায়দ ইসলাম ফ্রান্সে বাংলাদেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপরও গুরুত্ব দেন। বিশেষ করে ওষুধ, চামড়া, সিরামিক ও পাটজাত পণ্যের মতো সম্ভাবনাময় খাতে রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানান। একই সঙ্গে এসব খাতে আরও বেশি ফরাসি বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ফ্রান্সের অব্যাহত সহযোগিতার প্রশংসা করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, অভিবাসন ও শ্রমিক চলাচলসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়াতে যৌথভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়। একই সঙ্গে বৈধ ও নিয়মিত শ্রমিক চলাচলের সুযোগ আরও সম্প্রসারণের গুরুত্ব তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে ফ্রান্সের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে বাংলাদেশ প্রস্তুত।
বৈঠকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও মতবিনিময় হয়। এর মধ্যে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়। বহুপাক্ষিক বিভিন্ন ফোরামে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন উভয় পক্ষ।
সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকের শেষে দুই পক্ষই আশা প্রকাশ করে, সংসদীয় প্রতিনিধি দলের পারস্পরিক সফর ও মতবিনিময় বাংলাদেশ-ফ্রান্স সম্পর্ককে নতুন গতি দেবে এবং দুই গণতান্ত্রিক দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করবে।











