তৃতীয় টার্মিনালের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এভিয়েশন বাজার ১৫ বিলিয়ন ডলারে নেওয়া সম্ভব: কেএম মুজিবুল হক


হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে দেশের এভিয়েশন খাতে বড় ধরনের সক্ষমতা তৈরি হবে। এই সক্ষমতা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের এভিয়েশন বাজারের আকার বর্তমান ৫-৬ বিলিয়ন ডলার থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন টোটাল এয়ার সার্ভিসেস লিমিটেডের চেয়ারম্যান কেএম মুজিবুল হক।

রাজধানীর ইউনাইটেড কনভেনশন হলে বণিক বার্তা আয়োজিত এভিয়েশন খাতের সম্ভাবনা, নীতিগত সংস্কার ও ভবিষ্যৎ করণীয়বিষয়ক পলিসি কনক্লেভে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
![]() |
![]() |
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
কেএম মুজিবুল হক বলেন, তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে বছরে ২০-২৪ মিলিয়ন যাত্রী এবং পাঁচ লাখ টন কার্গো পরিবহনের সক্ষমতা তৈরি হবে। এখন এই সক্ষমতা কীভাবে সর্বোচ্চ কাজে লাগানো যায়, সেটিই এভিয়েশন খাতের সামনে বড় প্রশ্ন। অবকাঠামো তৈরি হওয়ার পাশাপাশি এর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের এভিয়েশন বাজারের আকার প্রায় ৫-৬ বিলিয়ন ডলার। এর মাত্র ২২ শতাংশ দেশীয় এয়ারলাইনসগুলোর দখলে। ফলে দেশের এভিয়েশন বাজারের বড় একটি অংশ বিদেশি এয়ারলাইনসের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। বিমান ভ্রমণ বাবদ প্রতিবছর প্রায় ১ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে যাচ্ছে।
টোটাল এয়ার সার্ভিসেসের চেয়ারম্যান বলেন, এভিয়েশন খাতে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ থাকা সত্ত্বেও দেশের জিডিপিতে এ খাতের অবদান মাত্র দশমিক ৮ শতাংশ। পরিকল্পিতভাবে এ খাতের অবকাঠামো, সক্ষমতা ও ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করা গেলে এর অর্থনৈতিক অবদান বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এভিয়েশন হাব হিসেবে বিকশিত হওয়ার জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব এশিয়ার মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট ও কানেক্টিভিটি হাব হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।
কেএম মুজিবুল হক বলেন, তৃতীয় টার্মিনালের সক্ষমতা কাজে লাগাতে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই হবে না; পর্যাপ্ত উড়োজাহাজ, নতুন রুট, দক্ষ জনবল, আধুনিক গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, কার্গো ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক মানের যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দেশীয় এয়ারলাইনসগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশীয় এয়ারলাইনসগুলোর বিকাশের মাধ্যমে বিদেশে চলে যাওয়া বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার একটি অংশ দেশে রাখা সম্ভব। এ জন্য এয়ারলাইনস পরিচালনায় বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি।
কেএম মুজিবুল হকের মতে, এভিয়েশন খাতকে শুধু যাত্রী পরিবহনের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে চলবে না। কার্গো ও ফ্রেইট পরিবহন, পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সঙ্গে এ খাতের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ই-কমার্সের দ্রুত বিকাশের ফলে এয়ার কার্গোর ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে এগোতে পারলে বাংলাদেশের এভিয়েশন বাজারের আকার ১৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব। এর মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক মুদ্রা আয় বৃদ্ধি এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এভিয়েশন খাত আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
কনক্লেভে দেশের এভিয়েশন খাতের সম্ভাবনা, বিদ্যমান সমস্যা, তৃতীয় টার্মিনালের সক্ষমতা ব্যবহার, দেশীয় এয়ারলাইনসের বিকাশ এবং নীতিগত সংস্কার নিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা আলোচনা করেন।













