কোরীয় প্রশিক্ষণের জ্ঞান প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে কাজে লাগানোর আহ্বান জানালেন KOICA বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম


কোরিয়ায় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে প্রয়োগ এবং অন্যদের মধ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (KOICA) বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মি. জিহুন কিম।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরাটন ঢাকায় আয়োজিত ‘KOICA Bangladesh Alumni Night 2026’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। KOICA বাংলাদেশ অফিস এবং KOICA বাংলাদেশ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (KBAA) যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে কোরিয়ায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাংলাদেশি অ্যালামনাই, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাংলাদেশে নিযুক্ত কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মি. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন। অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেন KOICA বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মি. জিহুন কিম।
অনুষ্ঠানে জিহুন কিম বলেন, প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মধ্য দিয়েই কোরিয়া ও বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিতার সম্পর্ক শেষ হয়ে যায় না। বরং প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা যখন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে প্রয়োগ করা হয় এবং সহকর্মী ও নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, তখনই এ সহযোগিতার দীর্ঘমেয়াদি সুফল নিশ্চিত হয়।
তিনি বলেন, “আমাদের অংশীদারত্ব কোনো প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মধ্যেই শেষ হয়ে যায় না। আপনারা যে জ্ঞান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে নিয়ে আসেন, সেটিই আমাদের সহযোগিতাকে দীর্ঘস্থায়ী করে তোলে।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী KOICA বাংলাদেশ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনকে এ আয়োজনের জন্য অভিনন্দন জানান। কোরিয়ায় অর্জিত জ্ঞান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে প্রয়োগ এবং পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে তা ছড়িয়ে দিতে অ্যালামনাই সদস্যদের উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও কোরিয়ার অংশীদারত্ব জোরদারে KBAA-এর অবদানের কথা তুলে ধরেন।

কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন KOICA অ্যালামনাইদের দুই দেশের মধ্যে ‘জীবন্ত সেতুবন্ধন’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ভবিষ্যতে এ নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং বাংলাদেশ-কোরিয়া দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠান আয়োজনে KBAA-এর নির্বাহী কমিটির সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন KBAA-এর সভাপতি এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংযুক্ত সচিব মি. মো. সাইফুল্লাহ পান্না; সহসভাপতি এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মিসেস নাজমা মোবারেক; এবং সাধারণ সম্পাদক ও শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত সচিব ও ইন্সপেক্টর জেনারেল মি. মো. ফরহাদ সিদ্দিকী।

অনুষ্ঠানে কোরিয়ায় প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কীভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে, তা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি KBAA-এর জ্ঞান বিনিময় কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা, সহকর্মী ও তরুণ পেশাজীবীদের মধ্যে অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির উদ্যোগও তুলে ধরা হয়।
এ ছাড়া স্বাস্থ্য, শিক্ষা, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), ডিজিটাল গভর্ন্যান্স এবং গ্রামীণ উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাংলাদেশ-কোরিয়া সহযোগিতা এগিয়ে নিতে সরকারি অংশীদার ও উন্নয়ন সহযোগীদের অবদান স্বীকৃতির সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে KBAA নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করা, জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশ ও কোরিয়ার মধ্যে পেশাগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
KOICA Bangladesh Alumni Night 2026-এর আয়োজন আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখার ক্ষেত্রে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে।











