মালয়েশিয়ার ৬৯তম জাতীয় দিবস ও মালয়েশিয়া দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ‘দৈনিক ঢাকা ডায়লগ’ এর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানালেন এর সম্পাদক


মালয়েশিয়ার ৬৯তম জাতীয় দিবস ও মালয়েশিয়া দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন জাতীয় দৈনিক ঢাকা ডায়লগ-এর সম্পাদক প্রকৌশলী মোহাম্মদ সজীবুল-আল-রাজীব। অনুষ্ঠানে তিনি মালয়েশিয়ার সরকার ও জনগণকে জাতীয় দিবসের শুভেচ্ছা জানান।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ক্রাউন প্লাজা হোটেলে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়া হাইকমিশনের উদ্যোগে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওথমানের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রকৌশলী মোহাম্মদ সজীবুল-আল-রাজীব। এ সময় হাইকমিশনারের পক্ষ থেকে তিনি একটি স্মারক উপহার গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দীর্ঘ ঐতিহাসিক ও জনগণকেন্দ্রিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পঞ্চম শতাব্দী থেকেই বঙ্গ ও মালয় অঞ্চলের মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগ ছিল। সে সময় মসলা বাণিজ্যের পাশাপাশি বাংলার মসলিন মালয় অঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রাম ও পেনাংয়ের মধ্যে যোগাযোগসহ বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান দুই অঞ্চলের সম্পর্ককে আরও গভীর করে।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। মুক্ত বাণিজ্য, ওষুধ, জ্বালানি, ডিজিটাল অবকাঠামো, বৈদ্যুতিক যান, উন্নত উৎপাদন ও আধুনিক প্রযুক্তির মতো নতুন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

স্বাগত বক্তব্যে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওথমান বলেন, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার বাংলাদেশ। তবে বর্তমান বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে দুই দেশ ২০২৭ সালের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পন্নের লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
হাইকমিশনার বলেন, মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ জয়েন্ট বিজনেস কাউন্সিল গঠনের উদ্যোগ দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি বাংলাদেশে মালয়েশীয় বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মোহাম্মদ শুহাদা ওথমান বলেন, টেলিযোগাযোগসহ বিভিন্ন খাতে মালয়েশীয় কোম্পানিগুলোর উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। ভবিষ্যতে সেমিকন্ডাক্টর, হালাল শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, উন্নত উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, হজ ব্যবস্থাপনা, ইসলামি অর্থায়ন ও কৃষিসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

এক শুভেচ্ছা বার্তায় প্রকৌশলী সজীবুল-আল-রাজীব মালয়েশিয়ার জাতীয় দিবসের এই আনন্দঘন ও তাৎপর্যপূর্ণ উপলক্ষে হাইকমিশনার এবং মালয়েশিয়ার জনগণের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, কূটনীতিক, রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।











