এয়ারবাসের সঙ্গে ১০ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স


দেশের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এয়ারবাসের সঙ্গে ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। চুক্তির আওতায় চারটি Airbus A350-900 ওয়াইডবডি এবং ছয়টি Airbus A321neo সিঙ্গেল-আইল উড়োজাহাজ সংগ্রহ করবে বিমান।
বুধবার (৭ অক্টোবর, ২০২৬) রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও এয়ারবাসের মধ্যে এ Purchase Agreement স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তিকে বিমানের বহর আধুনিকায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি কৌশলের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক রোডম্যাপ অনুযায়ী, অত্যাধুনিক এই উড়োজাহাজগুলো ২০৩৩ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে বিমানের বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
চুক্তির আওতায় চারটি A350-900 উড়োজাহাজ দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটে এবং ছয়টি A321neo আঞ্চলিক রুটে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন প্রজন্মের জ্বালানি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তিসম্পন্ন এসব উড়োজাহাজ বিমানের দীর্ঘপাল্লার ও আঞ্চলিক যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি রুট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে।
একই সঙ্গে উন্নত প্রযুক্তির উড়োজাহাজগুলো যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক এভিয়েশন বাজারে বিমানের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা জোরদারে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষে চুক্তিতে প্রতিনিধিত্ব করেন বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাইজার সোহেল আহমেদ। এয়ারবাসের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ এশিয়ায় এয়ারবাসের প্রেসিডেন্ট জুর্গেন ওয়েস্টারমেয়ার।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান; পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টেট মিনিস্টার হুমাইউন কবির এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, এনডিসি।
অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লটজ, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শার্লে এবং স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল সিস্তিয়াগাসহ ঢাকার কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনার সদস্য এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
নতুন প্রজন্মের এয়ারবাস উড়োজাহাজ সংযোজনের মাধ্যমে বিমানের বহর আধুনিকায়নের পাশাপাশি বাংলাদেশের আকাশপথ যোগাযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক এভিয়েশন নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও এ চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।











