বৈশ্বিক বাজারে ক্ষুদ্র উৎপাদকদের প্রবেশে বায়িং হাউসের ভূমিকা বাড়ানোর আহ্বান জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী


বাংলাদেশ গার্মেন্ট বায়িং হাউস অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিবিএ) নেতৃবৃন্দ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশি পোশাক প্রস্তুতকারক ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের মধ্যে বাণিজ্যিক সেতুবন্ধন হিসেবে দেশের বায়িং হাউস ও লিয়াজোঁ অফিসগুলোর কার্যক্রম তুলে ধরেন বিজিবিএ নেতারা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে আরও বেশি বাংলাদেশি পণ্য যুক্ত করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোর সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

আলোচনায় নতুন বাজার অনুসন্ধানের পাশাপাশি বিদ্যমান বাজারগুলোতে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। শুধু প্রচলিত পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর পরিবর্তে নতুন পণ্য, নতুন বাণিজ্যিক চ্যানেল এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বাংলাদেশি উৎপাদকদের আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার মাধ্যমে রপ্তানি ভিত্তি সম্প্রসারণের বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়।
বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরিতে ‘ইনকিউবেটর কমিউনিটি’ ও উদ্ভাবনী সোর্সিং চ্যানেল চালুর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে উৎপাদকদের আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের প্রয়োজনীয় মান, ডকুমেন্টেশন, কমপ্লায়েন্স ও সময়মতো সরবরাহের সক্ষমতা তৈরির পাশাপাশি বায়িং হাউস ও বাংলাদেশি মিশনের মাধ্যমে তাদের সম্ভাব্য ক্রেতাদের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
বৈঠকে বিজিবিএর পক্ষ থেকে সদস্যদের ব্যবসায়িক ভিসা প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা, বায়ারদের বাংলাদেশে সোর্সিং, কারখানা পরিদর্শন ও অর্ডার চূড়ান্ত করার জন্য ভিসা সুবিধা এবং বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোর কমার্শিয়াল কাউন্সেলরদের আরও সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানানো হয়।
এ ছাড়া প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক সোর্সিং সম্প্রসারণ এবং বাণিজ্যে বিদ্যমান নন-ট্যারিফ ও প্যারা-ট্যারিফ বাধা কমাতে সংলাপ জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়। বিদেশে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী কমিউনিটি, ডায়াসপোরা চেম্বার ও ব্যবসায়ী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশি মিশনগুলোর সঙ্গে তাদের কার্যকর যোগাযোগ স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাল্কানভুক্ত দেশগুলো, পোল্যান্ড ও রোমানিয়াসহ নতুন বাজারে কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়ে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করে বিজিবিএ। একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অর্থ পরিশোধ ও সরবরাহসংক্রান্ত বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথাও বৈঠকে উঠে আসে।
বিজিবিএর পক্ষ থেকে দেওয়া প্রস্তাবকে বাস্তবভিত্তিক হিসেবে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সংশ্লিষ্টদের সম্ভাব্য টার্গেট দেশগুলো স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করার নির্দেশনা দেন। তিনি দেশ, পণ্যের ধরন, সম্ভাব্য ক্রেতার ধরন এবং সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি মিশনের কাছে প্রত্যাশিত সহযোগিতার বিষয়গুলো সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করে একটি তালিকা দিতে বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও বিদেশে অবস্থিত মিশনগুলোর মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ব্যবসায়ীরা যাতে সংশ্লিষ্ট মিশনে কার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন, কী ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যাবে এবং কত সময়ের মধ্যে জবাব পাওয়া যাবে—সে বিষয়ে একটি পূর্বানুমেয় ও সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুযোগও সহজ করতে হবে। দেশের পোশাক বাণিজ্যে বায়িং হাউসগুলো ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ভবিষ্যতে তাদের ভূমিকার মধ্যে ক্ষুদ্র উৎপাদকদের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি এবং সম্ভাব্য বাজারে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ ও প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত হওয়া প্রয়োজন।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি উইং বিজিবিএর সঙ্গে একটি নিবেদিত যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করবে। বিজিবিএর কাছ থেকে টার্গেট দেশভিত্তিক একটি সংক্ষিপ্ত প্রস্তাব পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি মিশনগুলোকে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সদস্যদের এবং প্রকৃত বাণিজ্যিক ক্রেতাদের ভিসা সুবিধার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দেখার কথা জানানো হয়।
এ ছাড়া নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিবর্তে প্রাথমিকভাবে সীমিত পরিসরে ‘ইনকিউবেটর কমিউনিটি’ ধারণাটি পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়নের সম্ভাবনা যাচাই করা হবে।
বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবিএর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, নতুন ক্রেতা অনুসন্ধান এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে আরও বেশি বাংলাদেশি উৎপাদককে যুক্ত করার উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।











