ইইউর সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্ব বাংলাদেশের


বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যকার বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও বহুমুখী সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ মতবিনিময় করেছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধি দলের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। এ সময় তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান।

সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও ইইউর দীর্ঘদিনের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অংশীদারত্বে সন্তোষ প্রকাশ করে উভয় পক্ষ এই সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রতি ইইউর বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য অংশীদারত্বের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বহুপাক্ষিকতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে ইইউর গঠনমূলক সম্পৃক্ততারও প্রশংসা করেন তিনি। বিশেষ করে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের কার্যক্রম এবং চলমান সংস্কার প্রক্রিয়ায় ইইউর সহযোগিতার বিষয়টি উল্লেখ করেন।
বৈঠকে আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন (ইউএনজিএ) নিয়েও আলোচনা হয়। অধিবেশনের সাইডলাইনে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে উভয় পক্ষ।
এ সময় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও গভীর করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে বাংলাদেশ-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, বেসামরিক বিমান চলাচল খাত এবং টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন তারা।
বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য ইইউর অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। আসন্ন ইউএনজিএর সাইডলাইনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা করে বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরার ব্যাপারেও উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করে।
সাক্ষাতে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বাংলাদেশ-ইইউ সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।











