বাংলাদেশ-ফ্রান্স সম্পর্ক জোরদারে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শ্রমবাজারে সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির


বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও অংশীদারত্ব আরও জোরদারে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শার্লে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শার্লে। সাক্ষাৎকালে তিনি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় হুমায়ুন কবিরকে অভিনন্দন জানান। এ সময় দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিভিন্ন উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন তারা।

সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ফ্রান্সের অব্যাহত সহযোগিতার প্রশংসা করেন। তিনি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, বেসামরিক বিমান চলাচল, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানান।
আগামী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন (ইউএনজিএ) ঘিরে অগ্রাধিকার ও প্রত্যাশা নিয়েও দুই পক্ষ আলোচনা করেন। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, বহুপাক্ষিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে মতবিনিময় করেন তারা। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশে ফরাসি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, মহাকাশ, প্রযুক্তি ও ওষুধশিল্পসহ সম্ভাবনাময় খাতে বাংলাদেশ-ফ্রান্স সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে বৈধ ও নিয়মিত শ্রমিক চলাচলের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ফ্রান্সের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রস্তুতির কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শার্লে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব ক্ষেত্রে ফ্রান্সের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংস্কারের উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়ে ফ্রান্সের আগ্রহের কথা জানান।
এ সময় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গার জন্য ফ্রান্সের অব্যাহত মানবিক সহায়তারও প্রশংসা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য একসঙ্গে কাজ করার প্রস্তুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন দুই পক্ষ।
সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকের সমাপ্তিতে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে অব্যাহত যোগাযোগ ও সহযোগিতা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গতিশীল করবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উভয় পক্ষ।











