তাজিকিস্তানে এশিয়ান পার্লামেন্টারি অ্যাসেম্বলির সভায় বাংলাদেশের পাঁচ দফা সুপারিশ


তাজিকিস্তানে অনুষ্ঠিত এশিয়ান পার্লামেন্টারি অ্যাসেম্বলির (এপিএ) সোশ্যাল অ্যান্ড কালচারাল অ্যাফেয়ার্স স্ট্যান্ডিং কমিটির সভায় অংশ নিয়েছে বাংলাদেশের একটি সংসদীয় প্রতিনিধি দল।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) অনুষ্ঠিত সভায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে ছিলেন মো. শহিদুল ইসলাম এমপি, ডা. মো. মাহবুবুর রহমান এমপি, তাজিকিস্তানে নিযুক্ত অনাবাসিক বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ সংসদ সচিবালয়ের উপসচিব ড. মো. ওহিদুজ্জামান।

সভায় বাংলাদেশের সংসদীয় প্রতিনিধি দল এ আয়োজন এবং সংসদীয় প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানোর জন্য তাজিকিস্তান সরকার ও সংসদীয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানায়।
প্রতিনিধি দল তাদের বক্তব্যে বাংলাদেশের ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট, ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের বিষয় তুলে ধরেন। একই সঙ্গে দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ, পদক্ষেপ ও কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন তারা।

প্রতিনিধি দল জানায়, নির্বাচনী ইশতেহারের ভিত্তিতে সরকার সংসদীয় গণতন্ত্র ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষা, সমৃদ্ধ ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে সব সম্প্রদায়ের পূর্ণ ও অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তারা উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া রাজনৈতিক ও জনজীবন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারী ও তরুণদের অংশগ্রহণ সম্প্রসারণে সরকারের অঙ্গীকারের কথাও তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল বলেন, টেকসই অগ্রগতির জন্য শুধু জাতীয় পর্যায়ে সুচিন্তিত নীতি গ্রহণই যথেষ্ট নয়; এশিয়াজুড়ে শক্তিশালী সংসদীয় সহযোগিতাও প্রয়োজন। সংসদ সদস্যদের অভিন্ন চ্যালেঞ্জগুলোকে কার্যকর আইনি পদক্ষেপে রূপান্তর, জবাবদিহিতা জোরদার এবং উন্নয়নকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জনকেন্দ্রিক রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে সভায় সম্মিলিত বিবেচনার জন্য বাংলাদেশের সংসদীয় প্রতিনিধি দল পাঁচটি সুপারিশ পেশ করে।
সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে—অভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আইন, নীতিমালা ও উত্তম কর্মপন্থা বিনিময়ের মাধ্যমে সহযোগিতা জোরদার করা; শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সুরক্ষা ও মানব উন্নয়নসংক্রান্ত নীতিমালা বাস্তবায়নে বাজেটীয় বরাদ্দ ও সংসদীয় তদারকি কার্যক্রম আরও কার্যকর করা; নারী, যুবক, শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে থাকা জনগোষ্ঠীর স্বার্থ নীতি ও আইনে প্রতিফলিত করা।
এ ছাড়া দুর্নীতি, মানব পাচার, অবৈধ মাদকসহ আন্তঃরাষ্ট্রীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংলাপ ও সমন্বিত আইন প্রণয়নের মাধ্যমে আন্তঃসংসদীয় সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং এশিয়াজুড়ে সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া, আন্তঃধর্মীয় সংলাপ, সহনশীলতা ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে সংসদীয় কূটনীতিকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়।
সভায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল সংসদীয় সংলাপ ও কূটনীতি আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, সংযুক্ত, সহনশীল ও শান্তিপূর্ণ এশিয়া গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানায়।











