বাংলাদেশ-সৌদি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১.২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত: সৌদি রাষ্ট্রদূত


সৌদি আরব ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্রমাগত গভীর ও বিস্তৃত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ বিন আবিয়াহ। তিনি বলেন, অর্থনীতি, বাণিজ্য, জ্বালানি, শ্রম ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) সৌদি আরবের ৯৬তম জাতীয় দিবস উপলক্ষে ঢাকায় সৌদি আরবের দূতাবাস আয়োজিত জাতীয় দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান সৌদি আরবের জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশটির সরকার ও জনগণকে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
তিনি সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ, ক্রাউন প্রিন্স এবং প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রতি শুভেচ্ছা জানান।
ড. মঈন খান বলেন, সৌদি আরব ও বাংলাদেশের সম্পর্ক ধর্মীয় বন্ধন, ঐতিহাসিক যোগাযোগ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত। সময়ের সঙ্গে এই সম্পর্ক বাণিজ্য, জ্বালানি, অবকাঠামো, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত হয়েছে।
তিনি বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে বিশেষ মর্যাদার স্থান দখল করে আছে। দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্ব ও ধর্মীয় সম্প্রীতির বন্ধন অত্যন্ত গভীর।
মন্ত্রী আরও বলেন, সৌদি আরবে বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক নাগরিক বসবাস ও কর্মরত রয়েছেন। তারা নিজেদের পরিবারের কাছ থেকে দূরে থেকেও সৌদি আরবের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে অবদান রাখছেন। বাংলাদেশি প্রবাসীদের আতিথেয়তা ও যত্ন নেওয়ার জন্য তিনি সৌদি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
হজযাত্রীদের জন্য নিরাপদ ও সুষ্ঠু তীর্থযাত্রার সুযোগ করে দেওয়ার ক্ষেত্রেও সৌদি আরবের অব্যাহত সহযোগিতার প্রশংসা করেন তিনি।
বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সহযোগিতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে ড. মঈন খান বলেন, জাতিসংঘ, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (OIC) এবং অন্যান্য বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মে দুই দেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, সংঘাত নিরসন এবং পরিবেশসহ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুই দেশের মধ্যে অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করার সম্ভাবনা দেখছে। জ্বালানি, বন্দর, অবকাঠামো, খাদ্য নিরাপত্তা ও লজিস্টিকসসহ বিভিন্ন খাতে আরও গভীর সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত দেওয়া রেয়াতি সহায়তার পরিমাণ ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। পাশাপাশি ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি অনুদান দেওয়ার জন্যও সৌদি আরবের রাজপরিবার, সরকার ও জনগণের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ বিন আবিয়াহ তার বক্তব্যে বলেন, সৌদি আরবের ৯৬তম জাতীয় দিবসে দেশটির জনগণ তাদের মাতৃভূমির উন্নয়ন ও অগ্রগতির চিত্র বিশ্বের সামনে তুলে ধরছে। সৌদি ভিশন ২০৩০-এর আওতায় বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রকল্পের মাধ্যমে সব ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, সৌদি আরব ও বাংলাদেশের শক্তিশালী সম্পর্ক বিভিন্ন ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে সমৃদ্ধি ও উন্নতি অর্জন করেছে। বিশেষ করে অর্থনীতি, বাণিজ্য, জ্বালানি, শ্রম এবং আন্তর্জাতিক সংস্থায় সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে। এ অগ্রগতি সৌদি ভিশন ২০৩০ এবং বাংলাদেশের ভিশন ২০৪১-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য গতি সঞ্চার হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় সফরের সংখ্যাও বেড়েছে, যা দুই দেশের ক্রমবর্ধমান ও গভীর সম্পর্কের প্রতিফলন।
বাংলাদেশ-সৌদি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ক্রমাগত বাড়ছে এবং বর্তমানে এর পরিমাণ ১ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। গত ছয় মাসে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি।

ড. আবদুল্লাহ বিন আবিয়াহ বলেন, দুই দেশের সরকার ও জনগণের মধ্যকার ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটেছে সরকারি পর্যায়ের বিভিন্ন কার্যক্রম ও যোগাযোগে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্ট নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।











