বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক জোরদারে সংসদীয় সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী


বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে সংসদীয় সহযোগিতা ও পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবির।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর, ২০২৬) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশবিষয়ক অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ (APPG)-এর চেয়ার এমপি আপসানা বেগমের নেতৃত্বে সফররত একটি প্রতিনিধি দল পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন যুক্তরাজ্যের এমপি শওকত আদম এবং হাউস অব লর্ডসের সদস্য লর্ড কুরবান হোসেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক শক্তিশালী করতে APPG-এর অব্যাহত আগ্রহের প্রশংসা করেন।
সাক্ষাতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংহতি ও সংস্কার কার্যক্রমে যুক্তরাজ্য সরকারের সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট, বাংলাদেশ এবং ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে APPG গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
বাংলাদেশের অগ্রগতি ও বাস্তব পরিস্থিতি যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে তুলে ধরার ক্ষেত্রে আরও কার্যকর সম্পৃক্ততা তৈরিতে APPG-এর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘায়িত এই সংকট এখন শুধু মানবিক সংকটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এর সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অনিয়মিত অভিবাসনের মতো বৃহত্তর বিষয়ও যুক্ত হয়েছে। তিনি রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও জোরালো উদ্যোগের আহ্বান জানান।
প্রতিনিধি দলটি আগামীকাল রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবে বলে জানানো হয়। এ সময় APPG প্রতিনিধিরা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ লাঘবে তাদের সমর্থনের কথা জানান। পাশাপাশি মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং রোহিঙ্গাদের নিজভূমিতে টেকসই প্রত্যাবাসনের বিষয়ে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে তাদের কণ্ঠ আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার আশ্বাস দেন তারা।
সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে সংসদীয় সহযোগিতা ও বিনিময় আরও জোরদার করার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক সংহতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অভিবাসন, দক্ষ জনশক্তি ব্যবস্থাপনা এবং মানবাধিকারসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
এ ছাড়া আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতেও মতবিনিময় করেন দুই পক্ষ। সংশ্লিষ্ট দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহও প্রকাশ করা হয়।











