বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্বে আগ্রহী ইন্দোনেশিয়া


বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরে অগ্রাধিকারভিত্তিক যৌথ প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর, ২০২৬) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবিরের সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী আনিস মাত্তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। এ সময় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা, স্বাস্থ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, কনস্যুলার সহযোগিতাসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় পর্যায়ে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়েও মতবিনিময় হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবির বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়ার বিদ্যমান চমৎকার সম্পর্ককে আরও গভীর করতে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন।

প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ইন্দোনেশিয়ায় ভিসা অন অ্যারাইভাল সুবিধা পুনর্বহাল, ইন্দোনেশিয়ায় ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি ওষুধ আমদানি, কফি বিনসহ বিভিন্ন পণ্যের পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিংয়ের জন্য সরকার-টু-সরকার (G2G) ব্যবস্থায় বাংলাদেশ থেকে পাটের ব্যাগ আমদানি, ইন্দোনেশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি আলু প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা প্রতিষ্ঠা।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সহযোগিতার বিষয়ে বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি সমঝোতা স্মারকের (MoU) খসড়াও ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র উপমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হালাল খাদ্যভোক্তা বাজার উল্লেখ করে হুমায়ূন কবির দুই দেশের মধ্যে হালাল খাতে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার সম্পর্ককে একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (Comprehensive Economic Partnership Agreement—CEPA)-এর দিকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের এসব প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী আনিস মাত্তা বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ ও উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করার বিষয়ে ইন্দোনেশিয়ার আগ্রহের কথা জানান।
এ লক্ষ্যে আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য অগ্রাধিকারভিত্তিক যৌথ প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তাব দেন আনিস মাত্তা। পাশাপাশি জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়াতে ঢাকা-জাকার্তার মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর সম্ভাবনা দুই দেশকে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র উপমন্ত্রীর এ দূরদর্শী উদ্যোগকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবির।
বৈঠকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে বাংলাদেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ইন্দোনেশিয়ার অব্যাহত সমর্থনের জন্য দেশটির সরকারকে ধন্যবাদ জানান হুমায়ূন কবির। তিনি আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনারশিপের জন্য বাংলাদেশের আবেদন, আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (RCEP)-এর সদস্যপদ অর্জন এবং বাংলাদেশ থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে ইন্দোনেশিয়ার অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন।
জবাবে ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী আনিস মাত্তা এসব বিষয়ে ইন্দোনেশিয়ার অব্যাহত সমর্থনের আশ্বাস দেন।
বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া উইংয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং ঢাকা ও জাকার্তায় নিযুক্ত বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবিরের আমন্ত্রণে ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী আনিস মাত্তা ৫ থেকে ৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত সরকারি সফরে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন।











