বাংলাদেশি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ-চামড়া-পাট আমদানিতে আগ্রহী মন্টেনিগ্রো


বাংলাদেশ ও মন্টেনিগ্রোর মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে বাংলাদেশ-মন্টেনিগ্রো সংসদীয় বন্ধুত্ব গ্রুপ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর ২০২৬) সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবিরের কার্যালয়ে মন্টেনিগ্রোর সংসদ সদস্য গর্ডান স্তোয়োভিচ সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে দুই দেশের সংসদের মধ্যে সম্পর্ক সম্প্রসারণ, সংসদীয় কূটনীতি জোরদার, পারস্পরিক সংসদীয় প্রতিনিধিদল বিনিময় এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ-মন্টেনিগ্রো সংসদীয় বন্ধুত্ব গ্রুপ গঠনের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধির ব্যাপক সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বাণিজ্য বহুমুখীকরণ এবং বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপর জোর দেওয়া হয়। মন্টেনিগ্রো একটি আমদানিনির্ভর দেশ উল্লেখ করে দেশটির সংসদ সদস্য বলেন, তৈরি পোশাকের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক এবং পাট ও পাটজাত পণ্য আমদানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাত তুলে ধরেন। তিনি কৃষি, কৃষিভিত্তিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সামুদ্রিক খাদ্য, ইকো-ট্যুরিজম, তৈরি পোশাক, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে বিনিয়োগের সুযোগের কথা উল্লেখ করেন। এ সময় মন্টেনিগ্রোর সংসদ সদস্য নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে দেশটির বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা জানান।
মন্টেনিগ্রো পর্যটনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক দেশ উল্লেখ করে দেশটির সংসদ সদস্য বাংলাদেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে যৌথ সহযোগিতা ও বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বৈঠকে শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি, জনশক্তি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ, মানব চলাচল ও অভিবাসন, ভিসা সহজীকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিভিন্ন অভিন্ন বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তির বৈধ অভিবাসন বাড়াতে কাজ করছে। বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনশক্তির মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী, প্রকৌশলী, নির্মাণকর্মী ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের কর্মীরা রয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় মন্টেনিগ্রোর সংসদ সদস্য জানান, দেশটির প্রতি বছর ৫০ হাজারের বেশি দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন হয়। পর্যটন, নির্মাণ, আতিথেয়তা এবং চিকিৎসাসেবা ও পরিচর্যা খাতে শ্রমের চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নিয়োগের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি জি-টু-জি (সরকার-টু-সরকার) চুক্তির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশি কর্মীদের মাধ্যমে মন্টেনিগ্রোর অর্থনীতিতে অবদান রাখার সুযোগ আরও সহজ করতে ওয়ার্ক পারমিট প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং শ্রমিকদের চলাচলসংক্রান্ত চুক্তি প্রণয়নের ওপর উভয় পক্ষ গুরুত্বারোপ করেন।
এ ছাড়া বাল্টিক অঞ্চল ও এর বাইরের দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে মন্টেনিগ্রোর সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ও মন্টেনিগ্রোর মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন সুযোগ অন্বেষণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।











