পরিবর্তনশীল বিশ্বে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে বিআইআইএসএসের সেমিনার অনুষ্ঠিত


পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা, কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদারের লক্ষ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ, বাস্তবসম্মত ও দূরদর্শী পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) অডিটোরিয়ামে ‘Foreign Policy of Bangladesh: Navigating Pathways in a Shifting World’ শীর্ষক এক সেমিনারে এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও স্বাগত বক্তব্য দেন বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আ স ম রিদওয়ানুর রহমান, এডব্লিউসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, জি।
সেমিনারে বিআইআইএসএসের গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর ও ড. সুফিয়া খানম এবং গবেষণা ফেলো এএসএম তারেক হাসান শিমুল ও আয়েশা বিনতে তৌহিদ পর্যায়ক্রমে চারটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন।

প্রবন্ধ উপস্থাপনায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নে জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন রক্ষার পাশাপাশি উদীয়মান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর তাঁরা গুরুত্ব দেন।
আলোচনায় উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দেশের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সমসাময়িক প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা অগ্রাধিকারের সমন্বয়ের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তার মধ্যে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হয়।
সেমিনারে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ কাজে লাগানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
এ ছাড়া একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য পররাষ্ট্রনীতি গড়ে তুলতে আদর্শিক অঙ্গীকার ও নীতিগত মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রবন্ধ উপস্থাপকরা। তাঁদের আলোচনায় এমন একটি পররাষ্ট্রনীতির প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে, যা একদিকে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে দেশের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করবে।
সেমিনারে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিদেশি কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গবেষক এবং বিভিন্ন থিঙ্ক ট্যাঙ্কের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারীরা তাঁদের মতামত, মন্তব্য, পরামর্শ ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন, যা সেমিনারের আলোচনাকে আরও সমৃদ্ধ করে।











