তরুণীদের দক্ষতা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে বাংলাদেশকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে দক্ষিণ কোরিয়া: KOICA কান্ট্রি ডিরেক্টর


বাংলাদেশের ঝরে পড়া কিশোরী ও তরুণীদের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির সরকারি উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (KOICA)-এর অর্থায়নে এবং জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)-এর বাস্তবায়নে পরিচালিত প্রায় ৫.৯৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে এ অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়।

সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ববি হাজ্জাজ। ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের সাতটি জেলায় বাস্তবায়িত প্রকল্পটির আওতায় প্রায় ১৭ হাজার ঝরে পড়া কিশোরী ও তরুণীকে দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

প্রকল্পটির নাম ‘Empowering Out-of-School Adolescent Girls and Young Women with Market-Driven Occupational Skills, Transferable Skills, and Job Placements’। দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের অনুদানে KOICA প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করে এবং ইউনিসেফ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও স্থানীয় অংশীদারদের সহযোগিতায় এটি বাস্তবায়ন করে।
অনুষ্ঠানে KOICA বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর বলেন, তরুণীদের দক্ষতা ও সম্ভাবনায় বিনিয়োগ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রকল্পটির সাফল্য শুধু অংশগ্রহণকারীর সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং দক্ষতা উন্নয়নের সঙ্গে বাস্তব কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার সুযোগ যুক্ত করাই এর মূল অর্জন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে দক্ষিণ কোরিয়া টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
প্রকল্পটির মাধ্যমে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী ঝরে পড়া কিশোরী ও তরুণীদের বাজারের চাহিদাভিত্তিক কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ, জীবনমুখী ও স্থানান্তরযোগ্য দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মক্ষেত্রে শিক্ষানবিশি এবং চাকরির সুযোগ তৈরিতে সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি, উদ্যোক্তা হতে আগ্রহীদের ব্যবসা শুরু ও পরিচালনায় সহযোগিতা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
প্রকল্পটি তরুণীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সামাজিক প্রতিবন্ধকতা দূর করার ওপরও গুরুত্ব দেয়। এ লক্ষ্যে পরিবার ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক আচরণ পরিবর্তনমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়, যাতে তরুণীদের শিক্ষা, কর্মজীবন ও উদ্যোক্তা হওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে ওঠে।
প্রধান অতিথি ববি হাজ্জাজ KOICA ও ইউনিসেফের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, তরুণদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু কারিগরি দক্ষতা অর্জনই যথেষ্ট নয়; যোগাযোগ দক্ষতাকেও অগ্রাধিকার দিতে হবে, যাতে বাংলাদেশের তরুণেরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেদের উপস্থাপন করতে পারেন এবং ভবিষ্যতের বিভিন্ন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারেন।
ইউনিসেফ বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি গিলিয়ান মেলসপ বলেন, KOICA ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর নয়, বরং উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর (BNFE) সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত এ উদ্যোগ আনুষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে থাকা কিশোরী ও তরুণীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার পথ তৈরি করেছে। দক্ষতা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁদের নিয়োগদাতা, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের উদ্যোগের সুফল বিস্তৃত করতে অর্জিত অভিজ্ঞতা ধরে রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কার্যক্রম সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ।
প্রকল্পটির বাজারচাহিদাভিত্তিক ও কর্মসংস্থানমুখী পদ্ধতি বাংলাদেশের উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়ন সম্প্রসারণের সরকারি উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর (BNFE) বিকল্প শিক্ষার সুযোগ কর্মসূচি (ALO) এবং SKILFO মডেলের সম্প্রসারণ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রকল্পটির সমাপ্তির মধ্য দিয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শেষ হলেও অর্জিত সাফল্য ধরে রাখা, কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং তরুণীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।











