ঢাকায় ভ্রাম্যমাণ যক্ষ্মা শনাক্তকরণ কার্যক্রমে ১ লাখ ৪৫ হাজার ডলার দিচ্ছে জাপান


ঢাকার বস্তি ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় যক্ষ্মা (টিবি) শনাক্তকরণ কার্যক্রম সম্প্রসারণে ১ লাখ ৪৫ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান দিচ্ছে জাপান সরকার। এ অর্থায়নে ভ্রাম্যমাণ যক্ষ্মা শনাক্তকরণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার গাড়ি ও একটি ফুজিফিল্মের বহনযোগ্য ডিজিটাল এক্স-রে যন্ত্র সংগ্রহ করবে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআর,বি (icddr,b)।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর ২০২৬) ঢাকায় জাপান দূতাবাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের জাপানি রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি (SAIDA Shinichi) এবং আইসিডিডিআর,বির প্রতিনিধিরা এ-সংক্রান্ত অনুদান চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। জাপান সরকারের ‘গ্রাসরুটস হিউম্যান সিকিউরিটি প্রজেক্টস’ (GGP) কর্মসূচির আওতায় এ অনুদান দেওয়া হচ্ছে।

‘ঢাকা জেলায় যক্ষ্মা শনাক্তকরণের জন্য ল্যান্ড ক্রুজার সংগ্রহ প্রকল্প’-এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার সীমিত সুযোগ থাকা জনগোষ্ঠীর কাছে সরাসরি যক্ষ্মা পরীক্ষার সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে। প্রকল্পটির আওতায় বছরে আনুমানিক ৯ হাজার মানুষকে যক্ষ্মা শনাক্তকরণ সেবার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ উদ্যোগের মাধ্যমে আগে শনাক্ত না হওয়া যক্ষ্মা রোগীদের চিহ্নিত করা এবং তাঁদের যথাযথ চিকিৎসাসেবার সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করার পাশাপাশি সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতেও সহায়তা মিলবে।
অনুষ্ঠানে জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বলেন, মানুষের জীবন ও মর্যাদা সুরক্ষার বিষয়টিকে জাপান অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। মানবিক নিরাপত্তার এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্যসেবা পেতে বাধার সম্মুখীন হওয়া মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে প্রকল্পটি ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশভিত্তিক আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআর,বি ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গবেষণা, উদ্ভাবন ও বাস্তবভিত্তিক স্বাস্থ্যসমাধান নিয়ে কাজ করে। এ প্রকল্পে প্রতিষ্ঠানটির জনস্বাস্থ্যবিষয়ক অভিজ্ঞতার সঙ্গে জাপানি প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটবে।
অনুষ্ঠানে টয়োটা তুশো করপোরেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ইচিরো কাশিতানিও উপস্থিত ছিলেন। প্রকল্পের আওতায় ব্যবহৃত গাড়ি ও যন্ত্রপাতি পরিচালনার বিষয়ে টয়োটা তুশো করপোরেশন এবং ফুজিফিল্ম কারিগরি প্রশিক্ষণ সহায়তা দেবে।
জাপান সরকার ১৯৮৯ সাল থেকে গ্রাসরুটস হিউম্যান সিকিউরিটি প্রজেক্টস (GGP) কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার ২২৪টি প্রকল্পে সহায়তা দিয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে অর্থনৈতিক ও সামাজিক মানবিক নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে এসব প্রকল্পে মোট অনুদানের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৭৮ লাখ মার্কিন ডলার।











