প্রকৃতি ও সংস্কৃতির বন্ধনে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ‘ধরা তরু কাব্য’ অনুষ্ঠিত


কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রকৃতিপ্রেম ও পরিবেশ ভাবনাকে কেন্দ্র করে ঢাকায় মঞ্চস্থ হয়েছে বিশেষ নৃত্যনাট্য ‘ধরা তরু কাব্য—Nature’s Tale’। রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত কবিতা ‘বৃক্ষ বন্দনা’ অবলম্বনে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) রাজধানীর ছায়ানট অডিটোরিয়ামে এ নৃত্যনাট্যের আয়োজন করে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার (আইজিসিসি)।
নৃত্য ও নাট্যভাষার মাধ্যমে প্রকৃতি, মানবজীবন ও পরিবেশের মধ্যকার চিরন্তন সম্পর্ক তুলে ধরাই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ও বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ সরকার বিভিন্নভাবে দেশের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে।

অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার গভীর সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দুই দেশের অভিন্ন ঐতিহ্য, সাহিত্য ও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসার মধ্য দিয়ে এ সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও সমৃদ্ধ হয়েছে। প্রকৃতিকে সম্মান ও সংরক্ষণ করা সবার অভিন্ন দায়িত্ব—এই পরিবেশনাটি সেই বার্তাই স্মরণ করিয়ে দেয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
![]() |
![]() |
![]() |
![]() |
‘ধরা তরু কাব্য’ পরিবেশনায় বাংলার ছয় ঋতুর বৈচিত্র্যকে নৃত্য, সংগীত ও নাট্যাভিব্যক্তির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। বসন্তের ফুলেল সৌন্দর্য ও গ্রীষ্মের উষ্ণতা থেকে শুরু করে বর্ষার বৃষ্টি, শরতের প্রাচুর্য এবং শীতের নিস্তব্ধতা—বাংলার প্রকৃতির বিভিন্ন রূপ এতে শৈল্পিকভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়।
পরিবেশনাটিতে প্রকৃতির সৌন্দর্য, স্থিতিস্থাপকতা ও চিরন্তন প্রাণশক্তির পাশাপাশি মানবজীবনের সঙ্গে প্রাকৃতিক বিশ্বের গভীর সম্পর্ক তুলে ধরা হয়। রবীন্দ্রনাথের প্রকৃতির প্রতি গভীর অনুরাগ এবং মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যে সম্প্রীতির যে দর্শন তাঁর সৃষ্টিতে প্রতিফলিত হয়েছে, নৃত্য-নাট্যের মাধ্যমে সেটিই নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে তুরঙ্গমী রেপার্টরি ড্যান্স থিয়েটার-এর শিল্পীরা পরিবেশনায় অংশ নেন। দলটির শিল্পনির্দেশক পূজা সেনগুপ্ত। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে এমএস এবং কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নৃত্যে এমএ সম্পন্ন করেন। ২০১৩ সালে ভারত সরকারের আইসিসিআর বৃত্তির মাধ্যমে তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃত্য বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। ভরতনাট্যমে প্রশিক্ষিত পূজা সেনগুপ্ত নৃত্যশিক্ষা ও গবেষণায় তাঁর সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী কাজের জন্য পরিচিত।
বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক মঞ্চ ও উৎসবে তিনি তাঁর নৃত্যকর্ম উপস্থাপন করেছেন।
আলো, সংগীত, নৃত্য ও নাট্যাভিব্যক্তির সৃজনশীল সমন্বয়ে ‘ধরা তরু কাব্য’ দর্শকদের সামনে রবীন্দ্রনাথের প্রকৃতিচেতনার একটি ব্যতিক্রমী শিল্পরূপ তুলে ধরে। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের সমকালীন নৃত্যচর্চার বৈচিত্র্য ও সক্ষমতারও প্রকাশ ঘটায়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রবীন্দ্রসংগীতের বিশিষ্ট শিল্পী, খ্যাতনামা নৃত্যশিল্পী, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, ঢাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সংস্কৃতিপ্রেমী, শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।















