শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে গুগলের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব চায় বাংলাদেশ


বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ডিজিটাল দক্ষতা, ক্লাউড কম্পিউটিং, সাইবার নিরাপত্তা এবং দায়িত্বশীল প্রযুক্তি ব্যবহারে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে গুগলের সঙ্গে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ।
এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার মাউন্টেন ভিউয়ে গুগলের সদর দপ্তর পরিদর্শন করে। লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের উদ্যোগ ও সমন্বয়ে এ সফর অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-২ কামরুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব-১ মো. জাহিদুল ইসলাম।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল কাজী মুহাম্মদ জাবেদ ইকবাল বৈঠকে অংশ নেন।
গুগলের পক্ষে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন Google for Education-এর স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট দিব্যা জানি। গুগলের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মারা রিতুচ্চি, আবু সালেহ, গ্রেস কেলি ও মারিয়া তুবিও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায় Google for Education এবং প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও কার্যকর করার সম্ভাবনা। একই সঙ্গে শিক্ষক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের শেখার ফলাফল উন্নত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহারে বাংলাদেশ ও গুগলের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য এ ধরনের সহযোগিতার বাস্তব সুফল নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক শিক্ষার আধুনিকায়নে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষাক্রম উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল সংযোগ সম্প্রসারণ, কার্যকর মনিটরিং এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা।
বৈঠকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল শিক্ষা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এর আওতায় লার্নিং ও স্কুল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন, ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর স্কুল পরিদর্শন ও মনিটরিং ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল নিরাপত্তা, শিক্ষক সার্টিফিকেশন এবং শ্রেণিকক্ষে দায়িত্বশীলভাবে AI ব্যবহারের বিষয়েও সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
গুগলের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন দেশে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, AI-সহায়িত শিক্ষা এবং শিক্ষার ফলাফল পরিমাপের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এ সময় Google Workspace for Education, Google Classroom ও Gemini for Education-এর মতো প্রযুক্তি এবং প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেশনের মাধ্যমে শিক্ষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ভার্চুয়াল লার্নিং, ক্লাউড কম্পিউটিং, সাইবার নিরাপত্তা ও ডেটা সায়েন্সে সহযোগিতার সুযোগ তুলে ধরেন। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পেশাজীবী ও তরুণদের জন্য কাঠামোবদ্ধ প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি টেকসই অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর শিক্ষা, প্রযুক্তি ও দক্ষতার সঙ্গে কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের সংযোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বৈশ্বিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার পাশাপাশি বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সামাজিক বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে এমন স্থানীয় AI ও ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ইউটিউব ক্রিয়েটর ইকোসিস্টেম নিয়েও আলোচনা হয়। শিক্ষা, সংস্কৃতি, উদ্যোক্তা কার্যক্রম ও সৃজনশীল কনটেন্টকে বৈশ্বিক দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে বাংলাদেশি কনটেন্ট নির্মাতাদের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। এ ক্ষেত্রে ক্রিয়েটরদের দক্ষতা উন্নয়ন, দায়িত্বশীল কনটেন্ট তৈরি, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং টেকসই আয় বা মনিটাইজেশনের বিষয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকের শেষে শিক্ষা, AI, ডিজিটাল দক্ষতা, ক্লাউড কম্পিউটিং, সাইবার নিরাপত্তা এবং দায়িত্বশীল ডিজিটাল কনটেন্টসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার অগ্রাধিকার নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের জন্য গুগল এবং বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের মধ্যে ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল গুগল ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে পরবর্তী সমন্বয় করবে। আলোচনায় উঠে আসা বিষয়গুলোকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব ও বাস্তবায়নযোগ্য উদ্যোগে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে এ সমন্বয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে।











