স্বাস্থ্য খাতে আগামী পাঁচ বছরে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের পরিকল্পনা সরকারের: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাব্যবস্থাকে আধুনিক, কার্যকর ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে সরকার বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতে আগামী পাঁচ বছরে বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
শনিবার (৮ আগস্ট, ২০২৬) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল প্রাঙ্গণে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
![]() |
![]() |
![]() |
![]() |
এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসক সমাবেশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান। সমাবেশের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ও ডা. জুবাইদা রহমান এলডি হল প্রাঙ্গণে নিম ও অর্জুন গাছের চারা রোপণ করেন। পরে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে সরকারের মূলনীতি হচ্ছে—‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’। এ নীতির আলোকে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার, নতুন করে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, ই-হেলথ কার্ড চালু এবং উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্য খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আগামী পাঁচ বছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেন, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন করলেই স্বাস্থ্য খাতে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়। চিকিৎসকদের সেবার মানসিকতা নিয়ে দায়িত্বের প্রতি নিবেদিত থাকতে হবে। দায়িত্ব পালনে অনিচ্ছাকৃত অবহেলা বা শৈথিল্য সরকারের কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাশাপাশি চিকিৎসক ও সামগ্রিক চিকিৎসাব্যবস্থা সম্পর্কে জনমনে অনাস্থা তৈরি করতে পারে।
তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে চিকিৎসকদের নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও দেশের মানুষ তাঁদের কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল ও মানবিক ভূমিকা প্রত্যাশা করে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে চিকিৎসকদের আরও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্র, দুর্বল অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন এবং ভঙ্গুর শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা পেয়েছে। সেই অবস্থা থেকে দেশকে ঘুরে দাঁড় করানোর জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র, রাজনীতি, শাসন ও প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা এখনও বসে নেই। সাম্প্রতিক সময়ে একটি চক্র সুকৌশলে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টায় সক্রিয় রয়েছে। তবে সরকার ইতিবাচক উদ্যোগের মাধ্যমে এসব পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে।
তারেক রহমান বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জ্বালানিসহ প্রতিটি খাতকে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও স্বনির্ভর করতে সরকার বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং সেগুলো বাস্তবায়ন করছে। দেশের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাব্যবস্থাকে আধুনিক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করার পাশাপাশি জনগণের জন্য আরও জনবান্ধব চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
চিকিৎসকদের উপস্থাপিত বিভিন্ন প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার চিকিৎসকদের সমস্যা ও সীমাবদ্ধতাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।
তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষ যেন মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পায় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী হতে না হয়—এমন একটি চিকিৎসাবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার ও চিকিৎসক সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আসুন, আমরা সকলে মিলে এমন একটি চিকিৎসাবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যেখানে দেশের প্রতিটি মানুষ মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাবে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য আর বিদেশমুখী হতে হবে না, ইনশাআল্লাহ।”















