টেক্সটাইল খাতের সমস্যা সমাধানে সংসদে তুলে ধরবে জামায়াত: ডা. শফিকুর রহমান


দেশের অর্থনীতির স্বার্থে টেক্সটাইল খাতের সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখার আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারের সব কাজের বিরোধিতা করা রাজনৈতিক সংস্কৃতি নয়; জনস্বার্থে সরকারের ভালো উদ্যোগে সহযোগিতা এবং জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে গঠনমূলক সমালোচনা ও প্রতিবাদ করবে বিরোধী দল।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর, ২০২৬) রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

বৈঠকে টেক্সটাইল খাতের প্রণোদনা, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, এলডিসি থেকে উত্তরণের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ, কর ও শুল্ক বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন নীতিগত জটিলতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিটিএমএ নেতারা তাঁদের খাতের বিদ্যমান সমস্যা ও চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেছেন। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান তাঁদের বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছেন এবং দেশের অর্থনীতির স্বার্থে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো জাতীয় সংসদে তুলে ধরার পাশাপাশি সরকারের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন।
তিনি বলেন, রপ্তানিমুখী শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল নিশ্চিত করা, দেশীয় প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্পের সক্ষমতা সংরক্ষণ, স্থানীয় মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সুরক্ষা, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও সংরক্ষণ এবং সরকারি রাজস্ব সুরক্ষার বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
একই সঙ্গে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার ও অবৈধ আমদানি প্রতিরোধের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সমন্বিত ও ভারসাম্যপূর্ণ নীতির মাধ্যমে দেশের প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্পকে টেকসইভাবে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বিরোধীদলীয় নেতা।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শিল্প ও উৎপাদন খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। তৈরি পোশাক শিল্পের সঙ্গে টেক্সটাইল খাতের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। ফলে এ খাতের যৌক্তিক সমস্যাগুলো সমাধানে সরকার, বিরোধী দল ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বিটিএমএ’র ভাইস প্রেসিডেন্ট শফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, বর্তমানে দেশের টেক্সটাইল খাতে প্রায় ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ হিসেবে এ খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি বলেন, টেক্সটাইল খাতের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং এরই মধ্যে কিছু সমস্যার সমাধান হয়েছে। অন্যান্য বিষয় নিয়েও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি জানান, বৈঠকে বিশেষভাবে প্রণোদনা, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ, কর বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন নীতিগত জটিলতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও কয়েকটি কারখানা এখনো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া এনার্জি বন্ড ও সুতার অপব্যবহারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিরোধী দলের দায়িত্ব শুধু সরকারের সমালোচনা করা নয়। জনস্বার্থে সরকারের ভালো উদ্যোগে সহযোগিতা করা এবং জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সরকারের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরা বিরোধী দলের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সংসদে তুলে ধরা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারের সঙ্গে আলোচনা করাও বিরোধী দলের দায়িত্বের অংশ।
আগামী ১৮ নভেম্বর বস্ত্র ও পোশাকসংশ্লিষ্ট বাটেক্সপোর সমাপনী অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতার প্রধান অতিথি হওয়ার দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতিতে এবার ব্যতিক্রম হচ্ছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যিক মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এবং সমাপনী অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার একটি প্রচলিত রীতি রয়েছে।
তিনি বলেন, এটি শুধু আনুষ্ঠানিকতার বিষয় নয়; এর সঙ্গে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পারস্পরিক মর্যাদার বিষয়ও জড়িত। এবার এ ক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
তবে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান নিজে কোনো অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হওয়ার জন্য দাবি বা অনুরোধ করেননি বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কোনো খাতকে দলীয় রাজনীতির সংকীর্ণতার মধ্যে আবদ্ধ করা উচিত নয়। ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে রাষ্ট্রের সব পক্ষের সমন্বয় থাকা প্রয়োজন।
বৈঠকে বিটিএমএ’র প্রেসিডেন্ট শওকত আজিজ রাসেল, ভাইস প্রেসিডেন্ট শফিকুল ইসলাম সরকার, পরিচালক মো. শাহিদ আলম, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট হোসেন মেহমুদ, পরিচালক প্রকৌশলী সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, সাবেক পরিচালক মো. মোশারফ হোসেন, সেক্রেটারি জেনারেল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাকির হোসেন, এনডিসি, পিএসসি (অব.), জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান, ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল জিয়াউল হাসান চৌধুরী এবং প্রেসিডেন্টের পিএস আরিফ রায়হান রবিন উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মো. সেলিম উদ্দিন এবং মাইশা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক ভূঁইয়াসহ অন্যরা।
বৈঠক শেষে বিটিএমএ নেতারা বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ও জামায়াতের নেতাদের ধন্যবাদ জানান। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে টেক্সটাইল খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধান হবে এবং দেশের টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক শিল্প আরও শক্তিশালী হবে।











