সাভারে এসআই আলতাফ হত্যায় ‘মূলহোতা’ আপনসহ গ্রেফতার ৪


সাভারে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আরও চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। মুন্সিগঞ্জের লঞ্চঘাট এলাকা থেকে দুজন এবং এর প্রায় এক কিলোমিটার দূরের এলাকা থেকে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে মামলার ১৫ আসামির মধ্যে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হলেন নয়জন।
আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাব-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আসাদুজ্জামান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—আলাউদ্দিন, সিহাদ, মিজান ও আপন। র্যাবের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
র্যাব-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, গ্রেপ্তার আপন ও জিহাদ কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্বের সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে মাদক-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও রয়েছে। র্যাবের ভাষ্য, এ ঘটনায় জড়িত ১৫ আসামিই কোনো না কোনোভাবে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
র্যাব আরও দাবি করেছে, গ্রেপ্তার আপন হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা। সে এসএস পাইপ দিয়ে এসআই আলতাফ হোসেনকে আঘাত করেছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে।
অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, এসআই আলতাফ হোসেনকে পুলিশ সদস্য হিসেবে টার্গেট করে হত্যা করা হয়নি। ঘটনার সময় অভিযুক্তরা নেশাগ্রস্ত ছিলেন। একটি অপরাধের ঘটনায় বাধা দিতে গিয়ে ঘটনাচক্রে হামলার শিকার হন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, মানবিক বিবেচনায় স্থানীয় একটি ঝামেলা মীমাংসা করতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন এসআই আলতাফ। সেখানে গিয়ে তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে হামলাকারীরা তাঁর কোনো কথা শোনেনি। একপর্যায়ে তারা তাঁকে মারধর করে। এতে গুরুতর আহত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।
এদিকে জনসম্মুখে অপরাধ সংঘটিত হলেও অনেকেই অপরাধীদের পুলিশের হাতে তুলে না দিয়ে ঘটনাস্থলের ছবি তুলে সরে যান বলে মন্তব্য করেছেন র্যাব-১০-এর অধিনায়ক।
তিনি বলেন, জনসম্মুখে কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে সাধারণ মানুষের দায়িত্ব হলো অপরাধীকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া। এ ধরনের ঘটনায় আইনেও সাধারণ মানুষকে অপরাধীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার বিধান রয়েছে।
কিন্তু মানুষ বিবেক বিসর্জন দিয়ে শুধু ছবি তুলে ঘটনাস্থল এড়িয়ে যাচ্ছে—এটি মানবিক স্খলনের উদাহরণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।











