ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান


ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের ন্যায্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একজন নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের যে অধিকার ও প্রাপ্য রয়েছে, তা নিশ্চিত করা সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁর দায়িত্ব।
সোমবার (১২ অক্টোবর, ২০২৬) বাংলাদেশ সচিবালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় আসনটির আটটি মন্দিরের প্রতিনিধিরা শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীকে পূজায় অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান।
মতবিনিময়কালে হিন্দু সম্প্রদায়ের কল্যাণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন নেতৃবৃন্দ। দুর্গাপূজার ছুটি ও অনুদান বাড়ানোর জন্য তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে সরকার যতটুকু কাজ করেছে, তা থেকে সরকারের সদিচ্ছার প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি বলেন, আরও কিছু বিষয়ে সরকার কাজ করার চেষ্টা করছে।
দেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সব ধর্মের মানুষের অবদানের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, তাঁর বাবা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সেই যুদ্ধে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে লড়াই করেছেন। একইভাবে ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনেও ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জাতির ক্রান্তিলগ্নে যখন আমরা ধর্মকে বিবেচনায় আনিনি, তখন অন্য কাজে কেন ধর্মকে বিবেচনা করব? দেশটা সবাই মিলে স্বাধীন করেছি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সবাই অংশ নিয়েছি।”
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে বিভিন্ন ধর্মের নেতা-কর্মীদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুসলমান নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি হিন্দু নেতা-কর্মীরাও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এসব ক্ষেত্রে ধর্মের কোনো পার্থক্য ছিল না।
নিজের দায়িত্ব ও অবস্থান তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আল্লাহ তাআলা আমাকে একটি সুযোগ দিয়েছেন। আমি আমার অবস্থান থেকে চেষ্টা করব, ধর্মের পরিপ্রেক্ষিতে নয়, বরং মানুষ হিসেবে প্রত্যেককে আমার ক্ষমতার মধ্যে যতটুকু নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব, তা নিশ্চিত করতে।”
তিনি আরও বলেন, একজন নাগরিক ও মানুষ হিসেবে প্রত্যেকের যে অধিকার এবং যা প্রাপ্য, সরকারপ্রধান হিসেবে তা নিশ্চিত করাই তাঁর কর্তব্য। প্রতিটি নাগরিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিজের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
মতবিনিময় সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন এবং কোনো সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন না। বিএনপিকে ভোট দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ভুল করেননি—সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে তা বারবার প্রমাণিত হচ্ছে বলেও তাঁরা মন্তব্য করেন।











