বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়াতে ঐকমত্য বাংলাদেশ–কেনিয়া


বাংলাদেশ ও কেনিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা জোরদার এবং ঝুলে থাকা চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। বিশেষ করে ওষুধ, কৃষি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), প্রতিরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন, ব্লু ইকোনমি এবং স্বাস্থ্য খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে উভয় দেশ।
বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) ঢাকায় বাংলাদেশ ও কেনিয়ার মধ্যে অনুষ্ঠিত তৃতীয় দফা ফরেন অফিস কনসালটেশনে (এফওসি) এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। উষ্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় বিষয়াবলি অনুবিভাগের সচিব ড. নজরুল ইসলাম। কেনিয়ার পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির পররাষ্ট্র ও প্রবাসী বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিষয়াবলির মহাপরিচালক অ্যাম্বাসেডর জোসফাত মাইকারা।
বৈঠকে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে নাইরোবিতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফা পরামর্শের পর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, আইসিটি, প্রতিরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন, ব্লু ইকোনমি, সংস্কৃতি, খেলাধুলা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে দ্বৈত কর পরিহার, বিনিয়োগের প্রসার ও সুরক্ষা, ব্লু ইকোনমিতে সহযোগিতা এবং চুক্তিভিত্তিক কৃষি উৎপাদনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অমীমাংসিত চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক দ্রুত চূড়ান্ত করার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত হওয়ার পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আলোচনায় বাংলাদেশ তার ওষুধশিল্প, তৈরি পোশাক, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা তুলে ধরে। অন্যদিকে, কেনিয়ার পক্ষ থেকে বাংলাদেশি ওষুধের গুণগত মান ও সাশ্রয়ী মূল্যের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে কেনিয়ায় বাংলাদেশি ওষুধ কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য উৎসাহিত করা হয়।
বৈঠকে কেনিয়া থেকে বাংলাদেশে উচ্চমানের কফি, শিমজাতীয় পণ্য, তুলা এবং প্রক্রিয়াজাত মাংস রপ্তানির আগ্রহের কথাও জানানো হয়। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে পণ্য বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বাজার বৈচিত্র্যকরণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
এ ছাড়া ঢাকায় কেনিয়ার আবাসিক কূটনৈতিক মিশন শিগগিরই স্থাপন করা হবে বলে দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়। কূটনৈতিক উপস্থিতি জোরদারের এই উদ্যোগ দুই দেশের নিয়মিত যোগাযোগ, বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বহুপক্ষীয় ক্ষেত্রেও সহযোগিতা গভীর করার বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়েছে। জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর জোট ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনে (আইওআরএ) পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময় উৎসাহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ও কেনিয়ার মধ্যে চতুর্থ দফা ফরেন অফিস কনসালটেশন ২০২৮ সালের অক্টোবরে নাইরোবিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।











