দেশের টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্পে উদ্ভাবনকে স্বীকৃতি দিতে আসছে ‘টেক্সটাইল ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’


বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্পে উদ্ভাবন, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ, টেকসই উন্নয়ন এবং পণ্যের বৈচিত্র্যকরণে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ আয়োজিত হতে যাচ্ছে ‘টেক্সটাইল ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’। আগামী ১৩ নভেম্বর এ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হবে। এ উপলক্ষে বুধবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকায় ডংইয়ি সোর্সিং লিমিটেডের (ডিএসএল) মাল্টিপারপাস হলে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের মতো এ আয়োজনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।
![]() |
![]() |
![]() |
![]() |
টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্পের উৎপাদন প্রক্রিয়া, প্রযুক্তি, পণ্য উন্নয়ন, পরিবেশগত ও সামাজিক টেকসই উন্নয়ন, বাজার সম্প্রসারণ এবং সাংগঠনিক রূপান্তরে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে—এমন উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও প্রতিষ্ঠানকে স্বীকৃতি দেওয়াই এ পুরস্কারের মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে শিল্পখাতে কার্যকর উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং সফল উদ্যোগগুলোকে বৃহত্তর পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে চান আয়োজকরা।
২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো আয়োজিত টেক্সটাইল ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ডে দেশের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবনী কার্যক্রম স্বীকৃতি পায়। ওই আয়োজনে প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট ক্যাটাগরিতে উর্মি গ্রুপ, মার্কেটিং বা মার্কেট ডেভেলপমেন্টে শাশা ডেনিমস, গার্মেন্ট প্রসেসিংয়ে মাসকো গ্রুপ এবং মানবসম্পদ ও সাংগঠনিক উন্নয়নে কোটস বাংলাদেশ পুরস্কার অর্জন করে।
প্রথম আয়োজনের ধারাবাহিকতায় এবারের পুরস্কারে মোট আটটি ক্যাটাগরিতে উদ্ভাবনী উদ্যোগ মূল্যায়ন করা হবে। ক্যাটাগরিগুলো হলো—প্রসেস ইনোভেশন, ম্যানুফ্যাকচারিং ইনোভেশন, টেকনোলজি, প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট, মার্কেটিং বা মার্কেট ডেভেলপমেন্ট, এনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবিলিটি, সোশ্যাল সাসটেইনেবিলিটি এবং এইচআর অ্যান্ড অর্গানাইজেশনাল ডেভেলপমেন্ট।
আয়োজকরা জানান, শুধু নতুন ধারণার অভিনবত্বের ভিত্তিতে নয়, বরং সংশ্লিষ্ট উদ্ভাবনের বাস্তব প্রভাব, সম্প্রসারণযোগ্যতা, সৃজনশীলতা, টেকসই সক্ষমতা ও বাজারের সঙ্গে প্রাসঙ্গিকতার ভিত্তিতে উদ্যোগগুলো মূল্যায়ন করা হবে। উৎপাদনশীলতা ও পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি, সম্পদের কার্যকর ব্যবহার, পরিবেশগত উন্নয়ন, ব্যবসায়িক সম্ভাবনা এবং সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে বাস্তব অবদান রাখা উদ্যোগগুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
এবারের আয়োজনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, শিল্পকারখানা থেকেই উদ্ভাবনী উদ্যোগ খুঁজে বের করার প্রচেষ্টা। টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬-এ অংশগ্রহণকারী কারখানাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে এ অ্যাওয়ার্ডের মনোনয়নের বিবেচনায় আসবে। পাশাপাশি, উল্লেখযোগ্য উদ্ভাবন রয়েছে—এমন অন্যান্য কারখানাকেও সরাসরি মনোনয়ন দেওয়া যাবে। পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত মূল্যায়ন ও বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয়ী নির্বাচন করা হবে।
আয়োজকদের মতে, দেশের অনেক কারখানায় ইতোমধ্যে কার্যকর বিভিন্ন উদ্ভাবনী উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলেও সেগুলো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বাইরে তেমন পরিচিতি পায় না। এসব উদ্যোগ শনাক্ত, মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে সফল সমাধানগুলো অন্য কারখানায় প্রয়োগ এবং বৃহত্তর পরিসরে সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।
টেক্সটাইল ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড ২০২৬-এর টাইটেল স্পন্সর হিসেবে যুক্ত হয়েছে বহুজাতিক পোশাক সোর্সিং ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ডংইয়ি সোর্সিং লিমিটেড (ডিএসএল)। প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক বাজারে সোর্সিং, পণ্য উন্নয়ন, উৎপাদন, গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহব্যবস্থাসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা দিয়ে থাকে। ডিএসএলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ প্যাবেল বাংলাদেশের পোশাক সোর্সিং ও বায়িং হাউস খাতের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত।
উদ্ভাবনের গুরুত্ব তুলে ধরে মোহাম্মদ প্যাবেল বলেন, “আমরা প্রায়ই ১০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের কথা বলি। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে শুধু রপ্তানির পরিমাণ বাড়ানো বা সাধারণ পণ্য উৎপাদনের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্পের জন্য প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা, গবেষণা ও উদ্ভাবন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ডিজাইন ও পণ্য উন্নয়নে আরও বেশি মনোযোগ। টেক্সটাইল ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ডের মতো উদ্যোগ নির্মাতাদের নতুন ধারণাকে বাস্তবসম্মত সমাধানে রূপান্তর করতে উৎসাহিত করবে, যা শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের জন্য অধিক মূল্য সংযোজন নিশ্চিত করতে পারে।”
এ অ্যাওয়ার্ডের মূল্যায়নের জন্য শিল্পনেতা, শিক্ষাবিদ ও পেশাজীবীদের সমন্বয়ে একটি জুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন বিজিএফটি ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউএফটি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার আয়ুব নবী খান।
জুরি বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন—এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক, বিজিএমইএর পরিচালক ড. মো. হাসিব উদ্দিন, টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সচেঞ্জের (টিআইই) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার এহসানুল করিম কায়সার, আইটিইটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. এনায়েত হোসেন, বাংলাদেশ টেক্সটাইল টুডের নির্বাহী সম্পাদক ও কটন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মোহাম্মদ হাসান, বাংলাদেশ টেক্সটাইল টুডের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার তারেক আমিন এবং টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সচেঞ্জের কৌশলগত ও প্রতিবেদনবিষয়ক প্রধান এনামুল হাফিজ লতিফী।
অনুষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ার এহসানুল করিম কায়সার বলেন, “উদ্ভাবনকে আমাদের শিল্পসংস্কৃতির অংশ করে তুলতে হবে। টেক্সটাইল ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড কারখানার বাস্তবসম্মত সমাধানগুলোকে স্বীকৃতি দিতে, সম্ভাবনাময় ধারণাগুলোর বিস্তার ঘটাতে এবং শিল্পসংশ্লিষ্টদের নতুনভাবে চিন্তা করতে ও আরও উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করতে পারে।”
অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার আয়ুব নবী খান বলেন, এ ধরনের স্বীকৃতি শিল্পখাতকে উদ্ভাবনে উৎসাহিত করবে। বিদেশে এ ধরনের উদ্যোগের প্রচলন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি সময়োপযোগী এ উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আয়োজকদের প্রশংসা করেন।
মূল্যায়ন ও বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর চূড়ান্ত মনোনয়ন, পুরস্কারের বিভিন্ন ক্যাটাগরি এবং বিজয়ীদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, টেক্সটাইল ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্পে উদ্ভাবনভিত্তিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, পণ্যে মূল্য সংযোজন, পরিবেশগত ও সামাজিক টেকসই উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।















