বৈশ্বিক হালাল বাজার ২০২৯ সালে ৩.৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে: শুহাদা উথমান


বৈশ্বিক হালাল বাজারের আকার ২০২৪ সালে প্রায় ২ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং ২০২৯ সালের মধ্যে এ বাজার প্রায় ৩ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার শুহাদা উথমান। তিনি বলেন, মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি গুণমান, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসম্মত পণ্যের প্রতি বৈশ্বিক ভোক্তাদের বাড়তি আগ্রহ হালাল শিল্পের প্রবৃদ্ধিকে দ্রুত ত্বরান্বিত করছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট, ২০২৬) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে মালয়েশিয়ান হাইকমিশন আয়োজিত ‘থিংক হালাল, গ্রো গ্লোবাল: স্ট্রেংদেনিং মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ মার্কেট লিংকেজেস অ্যান্ড লিভারেজিং বাংলাদেশ’স হালাল ইন্ডাস্ট্রি ফর গ্লোবাল গ্রোথ’ শীর্ষক সেমিনারে স্বাগত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার শুহাদা উথমান বলেন, হালাল এখন আর শুধু ধর্মীয় প্রয়োজনীয়তা কিংবা একটি সনদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। খাদ্য ও পানীয়, ওষুধ, প্রসাধনী, পর্যটন ও আতিথেয়তা, সরবরাহ ব্যবস্থা, অর্থায়ন এবং পোশাকসহ বৈশ্বিক অর্থনীতির বিস্তৃত ক্ষেত্রজুড়ে হালাল শিল্পের বিকাশ ঘটছে। গুণমান, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যবিধি, নৈতিকতা ও আস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া ভোক্তার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হালাল পণ্যের বাজারও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিশাল বৈশ্বিক বাজার মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। শুধু হালাল অর্থনীতিতে অংশ নেওয়াই যথেষ্ট নয়; বরং এমন ব্যবসা ও শিল্প গড়ে তুলতে হবে, যা বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা, সহযোগিতা ও টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারে। এ কারণেই ‘থিংক হালাল, গ্রো গ্লোবাল’ বার্তাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের হালাল শিল্পের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার বলেন, বৃহৎ জনসংখ্যা, ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি, গতিশীল বেসরকারি খাত এবং শক্তিশালী উৎপাদন সক্ষমতার কারণে বাংলাদেশে হালাল শিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বাংলাদেশের সঙ্গে ভাগাভাগি করে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করা সম্ভব।
তিনি বলেন, একটি শক্তিশালী হালাল শিল্প গড়ে তুলতে শুধু সনদ যথেষ্ট নয়। কার্যকর সরকারি নীতি, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মান ও সনদ, দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবন, অর্থায়ন এবং বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণের সমন্বয় প্রয়োজন। এসব উপাদানের সমন্বয়ে মালয়েশিয়া একটি শক্তিশালী হালাল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলেছে।
শুহাদা উথমান বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ী, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে যৌথ উদ্যোগ, বিনিয়োগ, হালাল শিল্পের উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, সনদ ও মান নির্ধারণ, প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময়, সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের হালাল পণ্য ও সেবাকে শুধু মালয়েশিয়ার বাজারে নয়, বৃহত্তর আসিয়ান অঞ্চলসহ আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দেওয়ার কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। একইভাবে মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলোরও বাংলাদেশকে শুধু ১৮ কোটির বেশি মানুষের বাজার হিসেবে দেখা উচিত নয়; বরং বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতির জন্য পণ্য উৎপাদন, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশকে বিবেচনা করতে হবে।
মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল হালাল শোকেস (মিহাস)-এ বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ২৩ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ায় মিহাস অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোকে এ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে অংশ নেওয়ার সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।
তিনি বলেন, মিহাস ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হালাল ব্যবসা, ক্রেতা, বিনিয়োগকারী, নীতিনির্ধারক ও শিল্প উদ্যোক্তাদের সংযোগের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোর জন্য এটি পণ্য প্রদর্শন, ক্রেতা ও পরিবেশক খোঁজা, আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া, অংশীদারত্ব তৈরি এবং বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বড় সুযোগ।
মিহাসে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সহায়তা ও প্রণোদনা দেওয়ায় কৃতজ্ঞতা জানান হাইকমিশনার।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নতুন ধারণা, যোগাযোগ ও অংশীদারত্ব তৈরি হবে। হালাল শিল্প দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করবে এবং বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
সেমিনারে হালাল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন মালয়েশিয়া, বাংলাদেশ হালাল সার্টিফিকেশন বিভাগ, বিডা, বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।











