আগামী নভেম্বরে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি চলছে: বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী


আগামী নভেম্বরে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি।
সোমবার (১২ অক্টোবর, ২০২৬) সকাল ১১টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে নবনির্মিত কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর বিষয়ে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সভায় নবনির্মিত কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং নতুন আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের কান্ট্রি ম্যানেজাররা কক্সবাজার থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে তাঁদের মতামত ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার যাত্রায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা সরাসরি কক্সবাজারে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। ফলে পর্যটনশিল্পের বিকাশের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কক্সবাজারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক আকাশপথে যোগাযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিং কক্সবাজারের তুলনামূলক নিকটবর্তী। অন্যদিকে, ইউনান একটি স্থলবেষ্টিত প্রদেশ। এ বিবেচনায় কক্সবাজার ও কুনমিংয়ের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালু করা চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্স ও চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সের জন্য একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হতে পারে।
তিনি আরও জানান, এয়ার-এশিয়া পেনাংয়ের সঙ্গে কক্সবাজারের সরাসরি ফ্লাইট চালুর লক্ষ্যে কাজ করছে। এ ছাড়া ফ্লাইদুবাই এয়ারলাইন্সের কক্সবাজার–ব্যাংকক–দুবাই রুটে ফ্লাইট পরিচালনার আগ্রহকে স্বাগত জানান তিনি। নতুন আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু করতে এয়ারলাইন্সগুলোকে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টিও সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
এর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী বলেন, রিয়াদে হামলার ঘটনায় শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বের বিমান চলাচলে সাময়িকভাবে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাতিল হওয়া ১০টি ফ্লাইটের কারণে ৩ হাজার ৪০০-এর বেশি যাত্রীর যাতায়াত ব্যাহত হয়েছে।
যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি একটি বৈশ্বিক সংকট। সবার সহযোগিতায় এ পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদসহ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।











