বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য-শিল্প সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহী দক্ষিণ কোরিয়া


বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্প, প্রযুক্তি এবং উন্নয়ন সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর, ২০২৬) পৃথক বৈঠকে দেশটির বাণিজ্য আলোচনাবিষয়ক উপমন্ত্রী হাইজিন কওন এবং কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (KOICA) ভাইস প্রেসিডেন্ট দোহ ইয়ং-আহর সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবির। বৈঠকগুলোতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়।

বাণিজ্য আলোচনাবিষয়ক উপমন্ত্রী হাইজিন কওনের সঙ্গে বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবির বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর ও শিল্প উন্নয়নে দক্ষিণ কোরিয়ার দীর্ঘদিনের সহযোগিতার প্রশংসা করেন। তিনি দুই দেশের বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানান।

সম্প্রতি বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (CEPA) সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর কোরিয়া ও আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের আরও গভীরভাবে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রস্তাবিত দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরের সময় প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে CEPA আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশের পণ্য ও সেবার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে প্রবেশ আরও সহজ করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং বাণিজ্য ঘাটতি ধীরে ধীরে কমানোর আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে বাংলাদেশি কৃষি, মৎস্য ও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে খাদ্য নিরাপত্তা পরীক্ষা ও কোয়ারেন্টাইন প্রক্রিয়া আরও সহজ করার অনুরোধ জানান তিনি।
এ ছাড়া আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (RCEP)-এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি কোরিয়ার বড় শিল্পগোষ্ঠী ও ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধানের আহ্বান জানান এবং যৌথ বিনিয়োগ প্রচার ও সরকারি পর্যায়ের সহযোগিতার মাধ্যমে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জবাবে দক্ষিণ কোরিয়ার উপমন্ত্রী হাইজিন কওন বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্কের অগ্রগতিকে স্বাগত জানান। তিনি CEPA কাঠামোর আওতায় দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে কোরিয়ার আগ্রহের কথা জানান।
অন্যদিকে KOICA-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট দোহ ইয়ং-আহর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে KOICA-এর দীর্ঘদিনের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান প্রতিমন্ত্রী। অনুদান সহায়তা, সক্ষমতা বৃদ্ধি, কারিগরি সহযোগিতা ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে KOICA-এর ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী KOICA-এর ৩৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের Saemaul Plus End Poverty Programme-এর জন্যও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি পানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু সহনশীলতা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থানমুখী কারিগরি শিক্ষা এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবায় আরও সহযোগিতা কামনা করেন।
বাংলাদেশ-কোরিয়া উন্নয়ন সহযোগিতার পরবর্তী পর্যায়ে আরও বৃহৎ, সমন্বিত ও রূপান্তরমূলক কর্মসূচি গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেন হুমায়ূন কবির। বিশেষ করে ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং ডিজিটাল পাবলিক সার্ভিসের মতো খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ঢাকায় মেট্রোরেল (MRT) প্রকল্পে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (ADB) পাশাপাশি কোরিয়ার অর্থায়নের বিষয়ে দ্রুত সম্মতি দেওয়ার জন্যও অনুরোধ জানান প্রতিমন্ত্রী।
KOICA-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিতা সম্প্রসারণের আগ্রহকে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার ও কোরিয়ার উন্নয়ন সহযোগিতার অভিজ্ঞতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন ক্ষেত্র ও কর্মসূচি নিয়ে কাজ করার প্রস্তুতির কথা জানান।











