বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জার্মানি: জার্মানির রাষ্ট্রদূত


জার্মানির ঐতিহাসিক পুনরেকত্রীকরণ দিবস উপলক্ষে ঢাকায় এক বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে জার্মান দূতাবাস। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর, ২০২৬) ঢাকায় অবস্থিত ফ্রাঙ্কো-জার্মান দূতাবাসে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, বাণিজ্য, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

প্রতি বছর ৩ অক্টোবর জার্মানির পুনরেকত্রীকরণ দিবস পালিত হয়। ১৯৯০ সালের এই দিনে পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানি পুনরায় একত্রিত হয়ে একটি রাষ্ট্রে পরিণত হয়। ঐতিহাসিক এ দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরে অনুষ্ঠানে জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লটজ (Dr. Rüdiger Lotz) বলেন, ঐক্য, শান্তিপূর্ণ সমঝোতা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে কীভাবে অভিন্ন অগ্রগতি অর্জন সম্ভব, জার্মানির পুনরেকত্রীকরণ তার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি জার্মানির পুনরেকত্রীকরণের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে বাংলাদেশের উন্নয়নে জার্মানির কয়েক দশকের সহযোগিতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও সবুজ অর্থনীতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দুই দেশের অভিন্ন অঙ্গীকারের বিষয়টি তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তব্য দেন জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রীর সংসদীয় প্রতিমন্ত্রী ও ভাইস মিনিস্টার ড. বারবেল কোফলার (Dr. Bärbel Kofler)। বাংলাদেশ সফররত এই জার্মান প্রতিনিধি বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা এখানে থাকতে এসেছি” (We are here to stay)।

তিনি জলবায়ু সহনশীলতা, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে খোলামেলা সংলাপ ও পারস্পরিক অংশীদারত্বের ওপর গুরুত্ব দেন। স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পরবর্তী সময়ে জার্মানি বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পাশে থাকবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ঐতিহাসিক বিভাজন অতিক্রম করে ঐক্য প্রতিষ্ঠার অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে বৈশ্বিক জলবায়ু লক্ষ্য অর্জন—সব ক্ষেত্রেই পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও অভিন্ন লক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যকার বিদ্যমান কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক ও উন্নয়ন সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।











