দোহায় ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরামে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরল ইনভেস্ট বাংলাদেশ


দোহায় ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম ২০২৬-এ আজ বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং অবকাঠামো ও উৎপাদন খাতের বিভিন্ন প্রকল্প তুলে ধরেছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। অধিবেশনে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী ও বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিসহ প্রায় ১০০ জন অংশ নেন।
ফোরামের সেন্টার স্টেজে “Invest in Bangladesh: The Billion-Dollar Opportunity Hiding in Plain Sight” শীর্ষক অধিবেশনটি সোমবার দোহার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টা থেকে ১১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (UNCTAD) আয়োজিত ২৫–২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এই ফোরামে ইনভেস্ট বাংলাদেশের অংশগ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন ছিল এটি।
অনুষ্ঠানে প্রেজেন্টেশন দেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের বিনিয়োগ উন্নয়ন বিভাগের দায়িত্বে থাকা সদস্য নাহিয়ান রহমান রচি। বাংলাদেশের তরুণ কর্মশক্তি, প্রতিযোগিতামূলক পরিচালন ব্যয় ও অভ্যন্তরীণ বাজার কীভাবে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করছে, তা তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের সেবা ও অবকাঠামোর উন্নয়নে চলমান কাজের কথাও জানান।
উপস্থাপনায় সরকারি জমিতে বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, এলএনজি অবকাঠামো, প্রস্তাবিত চট্টগ্রাম মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল, বন্দর স্থাপনা ও মাতারবাড়ী গ্রিন ডকইয়ার্ডে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা হয়। ইলেকট্রনিকস, উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর বস্ত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জাম খাতের সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে। এসব প্রকল্পে ডেভেলপার, অপারেটর, বিনিয়োগকারী ও অর্থায়নকারীরা কীভাবে যুক্ত হতে পারেন, তা ব্যাখ্যা করা হয়।
নাহিয়ান রহমান রচি বলেন, “আমরা যেসব প্রকল্প তুলে ধরেছি, সেগুলোতে কীভাবে অংশ নেওয়া যায়, তা জানতে চেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। অর্থনৈতিক অঞ্চল, বন্দর ও ড্রাই ডকে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ নিয়েও অংশীদাররা আগ্রহ দেখিয়েছেন। এসব বিনিয়োগ বাংলাদেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আঞ্চলিক বাণিজ্যেও ভূমিকা রাখতে পারে। আগ্রহীদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাব। কোন প্রকল্পে কীভাবে যুক্ত হওয়া যায় এবং আমরা কীভাবে সহায়তা করতে পারি, তা নিয়ে কথা হবে।”
ফোরাম চলাকালে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও করেছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থাগুলো কীভাবে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে পারে, তা নিয়ে আজকের কর্মসূচিতে একটি গোলটেবিল আলোচনাও রয়েছে।
ফোরামের প্রথম দিনে জ্বালানি রূপান্তরের অগ্রাধিকারকে বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্পে রূপ দেওয়া নিয়ে মন্ত্রীপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প এগিয়ে নিতে বিনিয়োগকারী চিহ্নিত করা, জমি প্রস্তুত করা, নীতিগত সমন্বয় ও পিপিপি প্রকল্পের কাঠামো তৈরির কাজ কীভাবে একীভূত প্রতিষ্ঠানের আওতায় এসেছে, তা ব্যাখ্যা করেন তিনি। অব্যবহৃত সরকারি জমিতে সোনাগাজী সৌরবিদ্যুৎ পিপিপি প্রকল্প এবং অন্য জায়গায় এই মডেল প্রয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। ইনভেস্ট বাংলাদেশের পাইপলাইনে বর্তমানে ১৫টি বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প রয়েছে। আগামী কয়েক মাসে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে (পিপিপি) এসব প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হবে।
বিনিয়োগবিষয়ক পৃথক এক মন্ত্রীপর্যায়ের গোলটেবিল আলোচনায় উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোতে বিনিয়োগের উন্নয়নমূলক প্রভাবকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান। তিনি প্রস্তাব করেন, বাংলাদেশের সফল বিনিয়োগের উদাহরণগুলো আরও বেশি তুলে ধরতে পারে UNCTAD। পাশাপাশি বিনিয়োগ গ্যারান্টি ও রপ্তানি ঋণের মডেল অনুসরণ করে বিনিয়োগের ঝুঁকি ভাগ করে নেওয়ার ব্যবস্থাও বিবেচনা করতে পারে সংস্থাটি।











