ডিপ্লোম্যাটিক ডেস্কঃ
বাংলাদেশে অবস্থিত আলজেরিয়া দূতাবাস শুক্রবার (৮ মে) ঢাকায় যথাযোগ্য মর্যাদায় আলজেরিয়ার জাতীয় স্মরণ দিবস পালন করেছে। ১৯৪৫ সালের সেতিফ, গেলমা ও খেরাত্তা গণহত্যার ৮১তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের এবারের প্রতিপাদ্য ছিল— “A People Sacrificed… and Triumphed” (একটি জাতি আত্মত্যাগ করেছে… এবং বিজয় অর্জন করেছে)।
অনুষ্ঠানটি ছিল উপচেপড়া ভিড়ে পরিপূর্ণ। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অতিথিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থল নির্ধারিত সময়ের আগেই পূর্ণ হয়ে যায়, যা এ দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্যের প্রতিফলন ঘটায়।

সকাল ১১টায় আলজেরিয়ার জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর ১৯৪৫ সালের ৮ মে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে এক মাওলানা পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদেলওয়াহাব সাইদানি। তিনি অতিথিদের ফরাসি ও বাংলা ভাষায় শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য শুরু করেন। বক্তব্যে তিনি ১৯৪৫ সালের ৮ মে’র ঐতিহাসিক ঘটনাবলি স্মরণ করেন, যখন স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে শান্তিপূর্ণ মিছিল করা আলজেরীয় জনগণের ওপর ঔপনিবেশিক বাহিনী নির্মম দমন-পীড়ন চালায়।
রাষ্ট্রদূত বলেন, আলজেরিয়ার পতাকা নামাতে অস্বীকৃতি জানানোয় বুজিদ সালকে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং সেতিফ থেকে গেলমা ও খেরাত্তা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ সহিংসতা। এতে প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ নিহত হন। তিনি উল্লেখ করেন, এ গণহত্যা আলজেরিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রামের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং পরবর্তীতে ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট (এফএলএন) গঠনের পথ তৈরি করে। দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আলজেরিয়া ১৯৬২ সালের ৫ জুলাই স্বাধীনতা অর্জন করে।

রাষ্ট্রদূত সাইদানি আলজেরিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক সাদৃশ্য তুলে ধরেন এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যকার ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে ৮ মে ১৯৪৫ সালের ঘটনাবলির ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশ স্কাউটসের একজন প্রতিনিধি গণহত্যার ইতিহাস নিয়ে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে শহীদদের স্মরণে একটি কবিতা আবৃত্তি করা হয়, যা উপস্থিত অতিথিদের আবেগাপ্লুত করে তোলে।
পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে পরিবেশ ছিল গভীর শোক, শ্রদ্ধা ও সংহতির। বিভিন্ন পটভূমির অতিথিরা একসঙ্গে বসে ইতিহাসের এই বেদনাবিধুর অধ্যায় স্মরণ করেন। বিশেষ করে রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে বুজিদ সাল ও ৪৫ হাজার শহীদের প্রসঙ্গ উঠে এলে উপস্থিতদের মধ্যে গভীর আবেগের সঞ্চার হয়।
অনুষ্ঠান শেষে আলজেরিয়া দূতাবাসের পক্ষ থেকে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। এতে অতিথিরা সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মতবিনিময় করেন।











