May 21, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • আন্তর্জাতিক
  • চা শিল্পে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানালেন শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার

চা শিল্পে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানালেন শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার

Image

ডিপ্লোম্যাটিক ডেস্কঃ

আন্তর্জাতিক চা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত শ্রীলঙ্কা হাইকমিশন বৃহস্পতিবার (২১ মে, ২০২৬) ঢাকায় এক বর্ণাঢ্য “Tea Tasting Reception”-এর আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, চা শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, ট্রাভেল ট্রেড প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার ধর্মপাল বীরক্কোডি (Dharmapala Weerakkody) বলেন, আন্তর্জাতিক চা দিবস শুধু বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পানীয় ‘চা’-কে উদযাপনের দিন নয়, বরং এর সঙ্গে সম্পৃক্ত কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের স্বীকৃতিও বহন করে।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০১৯ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ২১ মে-কে আন্তর্জাতিক চা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। শ্রীলঙ্কা, ভারত, চীন ও কেনিয়ার মতো চা উৎপাদনকারী দেশগুলোর উদ্যোগ এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) সহযোগিতায় এই স্বীকৃতি আসে।

হাইকমিশনার আরও বলেন, চা কেবল একটি পানীয় নয়; এটি কৃষক, বাগানশ্রমিক, ব্যবসায়ী, রপ্তানিকারক ও ভোক্তাদের একটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শৃঙ্খলে যুক্ত করে, যা বহু দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ২০২০ সালে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিকভাবে দিবসটি উদযাপনের পর থেকে এটি চা শিল্পের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন, মূল্য ওঠানামা, শ্রমিক কল্যাণ, টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ চা চাষের বিষয়গুলো এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে।

শ্রীলঙ্কার ১৫০ বছরেরও বেশি পুরোনো চা ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে ধাম্মাপালা উইরাক্কোডি বলেন, “Ceylon Tea” বিশ্বজুড়ে তার উৎকৃষ্ট মান, স্বতন্ত্র সুবাস ও বিশেষ স্বাদের জন্য সুপরিচিত। শ্রীলঙ্কা টি বোর্ড আন্তর্জাতিক বাজারে সিলন চায়ের সুনাম ধরে রাখতে গুণগত মান নিশ্চিতকরণ, আন্তর্জাতিক প্রচারণা এবং উদ্ভাবনী কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শ্রীলঙ্কা টেকসই চা উৎপাদন, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি বিশেষায়িত চা, হারবাল ব্লেন্ড ও স্বাস্থ্যসচেতন ভোক্তাদের জন্য নতুন ধরনের ভ্যালু-অ্যাডেড চা পণ্যও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচার করা হচ্ছে।

বক্তব্যের শেষে শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার একটি টেকসই, ন্যায্য ও সহনশীল বৈশ্বিক চা শিল্প গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা শ্রীলঙ্কার ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন ধরনের চায়ের স্বাদ গ্রহণ করেন এবং চা শিল্পের বৈশ্বিক গুরুত্ব ও ঐতিহ্য সম্পর্কে মতবিনিময় করেন।

Scroll to Top