সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই আমরা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ধর্ম যার যার নিজস্ব বিষয় হলেও সবার একমাত্র পরিচয় হলো—আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। ধর্মের পরিচয়ে বিভেদ সৃষ্টি না করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর ২০২৬) রাতে চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জের জেএম সেন পূজামণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কুশল বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা যে যেই ধর্মেরই হই না কেন, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমাদের একমাত্র পরিচয় আমরা বাংলাদেশের নাগরিক।”
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, সেদিন বাংলাদেশের মানুষ জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন। যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এবং শহীদ হয়েছিলেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করা হয়নি। তখন সবাই দেখেছেন, তাঁরা দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ওই সময় দেশের ছাত্র-জনতা স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় কেউ জানতে চাননি। তাই আগামীর বাংলাদেশেও ধর্মের নামে কোনো বিভেদ থাকা উচিত নয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই দেশ আপনার, এই দেশ আমার, এই দেশ আমাদের সকলের।” মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষের সমান অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার মধ্য দিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

দেশ পরিচালনায় সবার সহযোগিতা কামনা করে তারেক রহমান বলেন, একটি সুন্দর ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার সব ধর্মের মানুষের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে। ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যেতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার।
এ সময় পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনসহ চট্টগ্রাম নগর ও জেলার সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।











