ব্যবসার দুর্যোগ প্রস্তুতি ও স্থিতিশীলতায় যৌথ উদ্যোগ বাড়াচ্ছে এফবিসিসিআই-এডিপিসি


বাংলাদেশের বাণিজ্যিক খাতকে জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগজনিত ঝুঁকির বিরুদ্ধে আরও সহনশীল করে তুলতে এশিয়ান ডিজাস্টার প্রিপেয়ার্ডনেস সেন্টার (ADPC) এবং বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) যৌথ উদ্যোগ জোরদারের লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট, ২০২৬) রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকের আয়োজন করে এফবিসিসিআই সেফটি কাউন্সিল। বৈঠকে এডিপিসির ব্যাংকক সদর দপ্তরের কমিউনিটি-বেইজড ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন (CBDRR) এবং কমিউনিটি-বেইজড অ্যাডাপটেশন (CBA) কর্মসূচির প্রোগ্রাম লিড এডউইন এম. সালঙ্গা অংশ নেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ প্রিপেয়ার্ডনেস পার্টনারশিপ (BPP) ফেজ-৩ কর্মসূচির আওতায় বেসরকারি খাতের দুর্যোগ প্রস্তুতি, ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা (Business Continuity) এবং স্থিতিস্থাপকতা (Resilience) বৃদ্ধিতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এডিপিসি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ প্রিপেয়ার্ডনেস পার্টনারশিপ (BPP) ফেজ-২ কর্মসূচির আওতায় এফবিসিসিআই সেফটি কাউন্সিলের বাস্তবায়িত বিভিন্ন উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে। তারা দুর্যোগ প্রস্তুতি, ব্যবসায়িক স্থিতিস্থাপকতা এবং বেসরকারি খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এসব কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি দেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ প্রিপেয়ার্ডনেস পার্টনারশিপের সকল কার্যক্রম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে।
বৈঠক শেষে এডউইন এম. সালঙ্গা এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ জাতীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বেসরকারি খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং দুর্যোগকালীন সময়ে সরবরাহ ব্যবস্থা (Supply Chain) সচল রাখা ও ব্যবসায়িক ঝুঁকি মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগ আরও জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই সেফটি কাউন্সিলের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবু নাঈম মো. শহীদুল্লাহ, এডিপিসি বাংলাদেশের কান্ট্রি হেড ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ, এফবিসিসিআই সেফটি কাউন্সিলের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর মো. মঞ্জুর কাদের খান, ক্যাপাসিটি বিল্ডিং স্পেশালিস্ট মো. শাখাওয়াত হোসেন এবং ওয়েব ডেভেলপার ও আইটি অফিসার মো. নিমুল ইসলাম।
বৈঠকের শেষে এফবিসিসিআই ও এডিপিসি উভয় প্রতিষ্ঠানই দুর্যোগ-সহনশীল, অভিযোজনক্ষম ও টেকসই বেসরকারি খাত গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব এবং সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সহযোগিতামূলক উদ্যোগ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীল, নিরাপদ ও টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।











