July 1, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • আন্তর্জাতিক
  • রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকায় অর্ধ-বার্ষিক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকায় অর্ধ-বার্ষিক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

Image

সম্পাদক, মোহাম্মদ সজীবুল-আল-রাজীবঃ

রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকা মঙ্গলবার (৩০ জুন ২০২৬) তাদের অর্ধ-বার্ষিক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ, রাশিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও যুব কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে রাশিয়ান হাউসের কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয় এবং বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার শিক্ষা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও যুব সহযোগিতার নতুন সুযোগসমূহ উপস্থাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকার পরিচালক আলেকজান্দ্রা খ্লেভনই বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার শিক্ষাগত সহযোগিতার ধারাবাহিক অগ্রগতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য রাশিয়ান সরকারের বৃত্তির সংখ্যা ২০১৮ সালের ৬৫টি থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৬ সালে ২০০টিতে উন্নীত হয়েছে। এর ফলে আরও অধিক সংখ্যক মেধাবী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জন্য রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অনলাইনে যুক্ত হয়ে রাশিয়ান সরকারের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ফারজানা ইয়াসমিন, যিনি বর্তমানে মস্কোর রাশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব ফ্রেন্ডশিপ অব পিপলস (RUDN University)-এর ফিলোলজি অনুষদের মাস কমিউনিকেশন বিভাগে গ্লোবাল অ্যান্ড ডিজিটাল মিডিয়া বিষয়ে স্নাতকোত্তর অধ্যয়ন করছেন, রাশিয়ায় তার শিক্ষা, শিক্ষাজীবন, আবাসন ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ান সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক যুব কর্মসূচির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবীরা শিক্ষা, বিজ্ঞান, গবেষণা, সংস্কৃতি ও আন্তর্জাতিক বিনিময় কর্মসূচিতে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।

বিশেষভাবে আলোচিত হয় সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরাম (SPIEF) ২০২৬, যেখানে রাশিয়ার আন্তর্জাতিক যুব কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের পাঁচজন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। এ উপলক্ষে অংশগ্রহণকারী মো. সৈয়দ রাইহান উল ইসলাম (ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি), মো. তৌহিদ বিন শাফি (কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ), সাকিব আসাদ খান (কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ) এবং ড. বারেক কায়সার (ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ) তাদের অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সুযোগ এবং পেশাগত জ্ঞান অর্জনের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

পরিচালক ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ ফেস্টিভ্যাল এবং ইস্টার্ন ইকোনমিক ফোরাম-সহ ‘নিউ জেনারেশন প্রোগ্রাম’-এর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উদ্যোগ সম্পর্কেও বিস্তারিত তুলে ধরেন। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশের মেধাবী তরুণরা রাশিয়ায় সম্পূর্ণ অর্থায়নে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও আন্তর্জাতিক বিনিময় কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।

এছাড়া ‘চিলড্রেন ফর পিস’ আন্তর্জাতিক সম্মেলন সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়। এ বছর প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষামূলক নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ছয়জন শিক্ষার্থী এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগ অর্জন করে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠাবিষয়ক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব ও আন্তঃসাংস্কৃতিক সংলাপকে আরও শক্তিশালী করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে ওপেন ডায়ালগ এবং সাংবাদিকদের জন্য ইন্টাররাশিয়া ফেলোশিপ প্রোগ্রাম সম্পর্কেও তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এ উপলক্ষে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষার্থী জিন্নাত আরা জাসোয়া-কে অভিনন্দন জানানো হয়, যিনি সাংবাদিকদের জন্য ইন্টাররাশিয়া ফেলোশিপ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।

এছাড়া রোসআটম-এর আন্তর্জাতিক প্রকল্প ‘আইসব্রেকার অব নলেজ’ সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয় যে, ২০২৫ ও ২০২৬—উভয় বছরেই বাংলাদেশ থেকে একজন করে বিজয়ী নির্বাচিত হয়েছেন, যারা রাশিয়ার পারমাণবিক আইসব্রেকার ‘৫০ লেট পোবেদি’-তে চড়ে উত্তর মেরুতে সম্পূর্ণ অর্থায়নে বৈজ্ঞানিক অভিযানে অংশগ্রহণের বিরল সুযোগ পেয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ার সহযোগিতায় আয়োজিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক একাডেমিক অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উল্লেখযোগ্য সাফল্যও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ফাইন্যান্সিয়াল সিকিউরিটি অলিম্পিয়াড, ওপেন ওয়ার্ল্ড অ্যাস্ট্রোনমি অলিম্পিয়াড, ইন্টারন্যাশনাল জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াড, ওপেন বায়োলজি অলিম্পিয়াড, ওপেন এনভায়রনমেন্টাল অলিম্পিয়াডসহ আরও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা, যেখানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা পদক অর্জনের মাধ্যমে দেশের সুনাম বৃদ্ধি করেছে।

বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় ওপেন ইন্টারন্যাশনাল বায়োলজি অলিম্পিয়াড ২০২৬, যা সিরিয়াস ফেডারেল টেরিটরিতে অনুষ্ঠিত হয়। এ প্রতিযোগিতায় টিম বাংলাদেশ প্রজেক্ট রাউন্ড বিজয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করে। পাশাপাশি বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ-এর শিক্ষার্থী তাসিন মোহাম্মদ ব্যক্তিগত বিভাগে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করে বাংলাদেশের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সাফল্য এনে দেন।

সংবাদ সম্মেলনে তাসিন মোহাম্মদ রাশিয়ায় অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা, বিশ্বমানের শিক্ষাপরিবেশ, আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারণে তার উদ্যোগ সম্পর্কে বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশে রাশিয়ার একাধিক আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডের আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

শিক্ষা ও ভাষাগত সহযোগিতার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। আলেকজান্দ্রা খ্লেভনয় জানান, ২০২৫ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গ ও RUDN বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এবং স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের রুশ ভাষার নিবিড় কোর্স পরিচালিত হয়। তিনি আরও জানান, ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে রুশ ভাষার বিশেষজ্ঞরা পুনরায় বাংলাদেশে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে রুশ ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ান হাউসের সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কূটনীতি সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়। এর মধ্যে ওয়ান রান আন্তর্জাতিক দৌড় প্রতিযোগিতা, ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়াভিত্তিক এথনোস্পোর্ট কার্যক্রম, চলচ্চিত্র উৎসব, শিল্প প্রদর্শনী, সঙ্গীতানুষ্ঠান, যুব বিনিময় কর্মসূচি এবং বাংলাদেশ ও রাশিয়ার জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারে আয়োজিত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উদ্যোগের বিষয় তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে বাংলাদেশের রাশিয়ান ফেডারেশনের দূতাবাসের অ্যাটাশে ও প্রেস সেক্রেটারি সোফিয়া কুতেপোভা ‘রাশিয়ার জনগণের ঐক্যের বছর’ শীর্ষক একটি উপস্থাপনা প্রদান করেন। তিনি রাশিয়ার বহুজাতিক ও বহুধর্মীয় সমাজব্যবস্থা, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও আন্তঃসাংস্কৃতিক সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলন শেষে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা রাশিয়ার শিক্ষা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি, আন্তর্জাতিক যুব কর্মসূচি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

Scroll to Top