ডিপ্লোম্যাটিক ডেস্ক:
ফিলিপাইনের ১২৮তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশে বসবাসরত ফিলিপিনোদের নিয়ে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে Philippine Society in Bangladesh (PSB)। শুক্রবার (২৬ জুন, ২০২৬) ঢাকার একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে অবস্থানরত ফিলিপিনো কমিউনিটির সদস্য, কূটনীতিক, অতিথি ও শুভানুধ্যায়ীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পি. কাইংলেট (Nina P. Cainglet)। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ফিলিপাইনের স্বাধীনতা শুধু ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নয়, বরং একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম জাতি হিসেবে ভবিষ্যৎ নির্মাণের অব্যাহত দায়িত্বেরও প্রতীক। তিনি বলেন, এবারের স্বাধীনতা দিবসের প্রতিপাদ্য “Kalayaan, Kinabukasan, Kasaysayan”—অর্থাৎ স্বাধীনতা, ভবিষ্যৎ ও ইতিহাস—ফিলিপিনো জাতিকে তাদের অর্জিত স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষা এবং একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গঠনের আহ্বান জানায়।


রাষ্ট্রদূত কাইংলেট বলেন, প্রবাসে বসবাসকারী প্রতিটি ফিলিপিনো দেশের অনানুষ্ঠানিক দূত হিসেবে কাজ করছেন। তাদের প্রতিটি সাংস্কৃতিক আয়োজন, পেশাগত সাফল্য, মানবিক উদ্যোগ এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ ফিলিপাইন ও বাংলাদেশের মধ্যকার বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় করছে। তিনি জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং প্রবাসী ফিলিপিনোদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রনীতির তিনটি প্রধান ভিত্তি বাস্তবায়নে বাংলাদেশে বসবাসরত ফিলিপিনোদের সহযোগিতা কামনা করেন।




তিনি আরও বলেন, আগামী বছর ফিলিপাইন ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দুই দেশের অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও সম্প্রসারণে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি তিনি Philippine Society in Bangladesh (PSB)-এর বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ফিলিপিনো কমিউনিটিকে ঐক্য, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের মর্যাদা সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন Philippine Society in Bangladesh (PSB)-এর সভাপতি খারেন স্যামসন (Kharen Samson)। তিনি বলেন, প্রবাসে বসবাসকারী প্রতিটি ফিলিপিনোই দেশের মর্যাদা বহন করেন। বাংলাদেশে কর্মরত পেশাজীবী, পরিবার ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত উপস্থিতিই একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ ফিলিপিনো কমিউনিটি গড়ে তুলেছে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতা কেবল অতীতের একটি অর্জন নয়, বরং প্রতিদিনের জীবনে সাহস, দায়িত্ববোধ ও আত্মত্যাগের প্রতিফলন। বিদেশের মাটিতে কেউ যেন নিজেকে একা অনুভব না করেন—এই লক্ষ্যেই Philippine Society in Bangladesh কাজ করে যাচ্ছে। পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও ‘বায়ানিহান’ (Bayanihan)-এর চেতনাই ফিলিপিনো সমাজের সবচেয়ে বড় শক্তি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
খারেন স্যামসন আরও বলেন, ভিন্নমত ও ভিন্ন অভিজ্ঞতা থাকলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও মানবিক মূল্যবোধই একটি কমিউনিটিকে শক্তিশালী করে। তিনি বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশের জনগণকে ফিলিপিনো কমিউনিটিকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানানোর জন্য ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, পরিবার, সংস্কৃতি, সংগীত, ঐতিহ্য ও স্বাধীনতার প্রতি ভালোবাসা—এই অভিন্ন মূল্যবোধ দুই দেশের জনগণকে আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।
অনুষ্ঠানে ফিলিপাইনের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরে মনোমুগ্ধকর নৃত্য ও সংগীত পরিবেশন করা হয়। ঐতিহ্যবাহী টিনিকলিং (Tinikling), সায়াও সা ব্যাংকো (Sayaw sa Bangko)-সহ বিভিন্ন লোকনৃত্য দর্শকদের মুগ্ধ করে। পাশাপাশি ফিলিপিনো শিল্পীদের পরিবেশনায় দেশাত্মবোধক ও জনপ্রিয় গান অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে।




এ সময় একটি অ্যাওয়ার্ড সেরিমনি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পি. কাইংলেট।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে অনুষ্ঠিত হয় এক বর্ণিল ফ্যাশন শো। এতে ফিলিপাইনের ঐতিহ্যবাহী Barong Tagalog, Baro’t Saya-সহ বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের পাশাপাশি আধুনিক নকশার পোশাকও প্রদর্শিত হয়। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মনোরম সমন্বয়ে সাজানো এ পরিবেশনা দর্শকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।











