ডেস্ক রিপোর্টঃ
বাংলাদেশের মৎস্য ও সামুদ্রিক অর্থনীতিতে (ব্লু ইকোনমি) দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে Maheshkhali Integrated Development Authority (MIDA) এবং Japan International Cooperation Agency (JICA) Bangladesh যৌথভাবে একটি সেমিনারের আয়োজন করেছে।

সোমবার (২৯ জুন, ২০২৬) রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত “Investment Potential in Fisheries and Marine Economy in Bangladesh” শীর্ষক এ সেমিনারে নীতিনির্ধারক, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী, মৎস্য বিশেষজ্ঞ, শিল্পোদ্যোক্তা এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীরা অংশ নেন।

সেমিনারে বাংলাদেশের মৎস্য ও সামুদ্রিক অর্থনীতির চারটি সম্ভাবনাময় খাত—গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণ (Deep-sea Fishing), মেরিকালচার (Mariculture), অ্যাকুয়াকালচার ও চিংড়ি শিল্প এবং আধুনিক সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ—নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
আলোচনায় শিল্পভিত্তিক মাছ ধরার নৌবহর, অফশোর অপারেশন, ফিশ ল্যান্ডিং ও লজিস্টিক ব্যবস্থা, বাণিজ্যিক মেরিকালচার, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন চিংড়ি মূল্যশৃঙ্খল, কোল্ড-চেইন অবকাঠামো এবং আধুনিক সি-ফুড প্রসেসিং শিল্পে বিনিয়োগের বিশাল সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে ব্লু ইকোনমি খাতে বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. খুরশেদ আলম।
এছাড়া বাংলাদেশের চিংড়ি শিল্প নিয়ে বক্তব্য দেন MIDA-এর এক্সিকিউটিভ মেম্বার কমোডর তানজিম ফারুক। জাপানের মৎস্যবাজার, বঙ্গোপসাগরে টুনা মাছ আহরণ এবং বাংলাদেশের মৎস্য খাতে জাপানি বেসরকারি বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে উপস্থাপনা করেন JICA-এর মৎস্য বিশেষজ্ঞ ড. এচিগো মানাবু। গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণের সম্ভাবনা নিয়ে বক্তব্য দেন অ্যাগ্রোলিংকের সায়েদ ইশতিয়াক এবং মেরিকালচার ও সি-ফুড প্রসেসিংয়ের সম্ভাবনা তুলে ধরেন মৎস্য অধিদপ্তরের ড. মুহাম্মদ তানভীর হোসেন চৌধুরী।

বিশেষ বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন এবং JICA বাংলাদেশ অফিসের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকো অংশ নেন।
বাংলাদেশে জাপানের দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন ও মিনিস্টার তাকাহাশি নাওকি বলেন, চলতি বছর বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (EPA) স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের নতুন ভিত্তি তৈরি করেছে। তিনি বলেন, খাদ্য ও মৎস্য খাতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব জোরদার করে এই চুক্তির সুযোগ কাজে লাগানো সম্ভব। বাংলাদেশের মৎস্য ও সামুদ্রিক অর্থনীতি ভবিষ্যতের বিনিয়োগ, রপ্তানি বৈচিত্র্য এবং আঞ্চলিক উন্নয়নের অন্যতম সম্ভাবনাময় খাত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সমাপনী বক্তব্যে MIDA-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, মৎস্য ও সামুদ্রিক অর্থনীতিকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে এগিয়ে নিতে MIDA সরকার ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সামুদ্রিক অর্থনীতির বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও বিনিয়োগকারীদের জন্য সুযোগ থেকে বাস্তবায়নের পথ আরও সহজ করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে নীতিগত, অবকাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করবে MIDA।
তিনি আরও বলেন, গত কয়েক মাসে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে ধারাবাহিক পরামর্শের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি প্রকৃত মৎস্য রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন নেতৃত্ব বিনিয়োগকারীদের সমস্যার সমাধানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আরও সমন্বিতভাবে কাজ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেও তিনি জানান।
সেমিনারের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে MIDA সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের ভিত্তিতে বিভিন্ন বিনিয়োগ প্রকল্পের একটি পাইপলাইন তৈরি করবে। পাশাপাশি আলোচনায় উঠে আসা নীতিগত ও নিয়ন্ত্রক প্রতিবন্ধকতাগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া মৎস্য খাতে কারিগরি সহায়তা ও বিনিয়োগ সহজীকরণে MIDA ও JICA যৌথভাবে কাজ অব্যাহত রাখবে।
উল্লেখ্য, Maheshkhali Integrated Development Authority (MIDA) ২০২৬ সালের আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা। কক্সবাজারের মহেশখালী ও মাতারবাড়িকে গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে লজিস্টিকস, জ্বালানি, উৎপাদনশিল্প এবং মৎস্য খাতের সমন্বয়ে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই সংস্থাটির প্রধান লক্ষ্য।











