ডিপ্লোম্যাটিক ডেস্কঃ
বুধবার (২০ মে, ২০২৬) সকালে রাবাতে অনুষ্ঠিত ফরাসিভাষী পরিবেশে শান্তিরক্ষা বিষয়ক দ্বিতীয় মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও এমপি শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষাকে শুধু একটি বাধ্যবাধকতা হিসেবে নয়, বরং মানবতার প্রতি এক গভীর নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে দেখে চলেছে।”

বহুপাক্ষিকতার প্রতি বাংলাদেশের অবিচল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অন্যতম বৃহত্তম অবদানকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থানের ওপর জোর দেন এবং বিশ্ব শান্তির সেবায় সর্বোচ্চ আত্মত্যাগকারী ১৭৪ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি নারী শান্তিরক্ষীদের ক্রমবর্ধমান ও প্রভাবশালী অবদানের বিষয়টিও তুলে ধরেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গড়া এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে আরও শক্তিশালী হওয়া বাংলাদেশের দীর্ঘস্থায়ী শান্তিমুখী পররাষ্ট্রনীতির ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে প্রতিমন্ত্রী সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা সংস্কার এবং নারী ক্ষমতায়নে চলমান জাতীয় উদ্যোগগুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এগুলোকে টেকসই শান্তির অপরিহার্য স্তম্ভ হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি আরও কার্যকর শান্তিরক্ষা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ কর্মসূচির কেন্দ্রীয় গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
প্রতিমন্ত্রী আধুনিক শান্তি কার্যক্রমে উদ্ভূত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, যেমন—ভুল তথ্য ও ডিজিটাল হয়রানি এবং শান্তিরক্ষার প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তির নৈতিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা সংস্কারকে শক্তিশালী ও দূরদর্শী করার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ সুস্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত ম্যান্ডেট, পর্যাপ্ত সম্পদ, সৈন্য ও পুলিশ সরবরাহকারী দেশগুলোর সঙ্গে বর্ধিত আলোচনা এবং শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য আরও জোরালো পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ পিস সাপোর্ট অপারেশন ট্রেনিং (বিআইপিএসওটি)-এর মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শক্তিশালী প্রাক-মোতায়েন প্রশিক্ষণের ওপর আরও জোর দেন এবং পরিবেশগতভাবে টেকসই শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
মরক্কো ও ফ্রান্স সরকারের যৌথ উদ্যোগে রাবাতে ফরাসিভাষী পরিবেশে শান্তিরক্ষা বিষয়ক দ্বিতীয় মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনের প্রথম সংস্করণ ২০১৬ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
অনুষ্ঠান চলাকালীন প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন মরক্কোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফাইজুন্নেসা।
সন্ধ্যায়, প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ রাবাতের ফোর সিজনস হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল গ্রোথ কনফারেন্স ২০২৬’-এর “বিভাজনের ভূ-রাজনীতি: ক্ষমতা, উত্তেজনা বৃদ্ধি ও কৌশলগত পুনর্গঠন” শীর্ষক অধিবেশনে মূল বক্তা হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। অধিবেশন চলাকালীন, তিনি পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, ক্ষমতার ভারসাম্যের পরিবর্তন এবং ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক বিভাজনের কৌশলগত প্রভাবের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে আলোচনা করেন।











