হালাল শিল্প বৈশ্বিক অর্থনীতি ও মানবকল্যাণের শক্তিতে পরিণত হতে পারে: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন


হালাল খাদ্যসংস্কৃতি ও মূল্যবোধ শুধু মুসলিম বিশ্বের জন্য নয়, সমগ্র মানবসভ্যতার জন্যও একটি বড় সম্পদ ও শক্তিতে পরিণত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, হালাল পণ্য ও সংস্কৃতির বিকাশ শুধু ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক বিষয় নয়; এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও মানবকল্যাণের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।
বুধবার (১৯ আগস্ট, ২০২৬) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে মালয়েশিয়ান হাইকমিশন আয়োজিত ‘থিংক হালাল, গ্রো গ্লোবাল: স্ট্রেংদেনিং মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ মার্কেট লিংকেজেস অ্যান্ড লিভারেজিং বাংলাদেশ’স হালাল ইন্ডাস্ট্রি ফর গ্লোবাল গ্রোথ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বিশ্ববাজারে হালাল খাদ্যের একটি বিশাল বাজার রয়েছে এবং ভোক্তা ও বিনিয়োগকারী উভয়েই এই খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রস্তুত। হালাল শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।
তিনি বলেন, ধর্মীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে অভিন্ন মূল্যবোধ রয়েছে। দুই দেশ যৌথভাবে তাদের অভিন্ন মূল্যবোধ, সংস্কৃতি ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে হালাল শিল্পের বিকাশ এবং বিশ্ববাজারে এর পরিধি সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
হালাল পণ্যের বৈশ্বিক চাহিদার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য সঠিক ধারণা, তথ্য, জ্ঞান ও সুনির্দিষ্ট ব্যবসায়িক কাঠামো তৈরি করতে হবে। সঠিক ধারণা ও জ্ঞানের সমন্বয় ঘটাতে পারলে তা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যেও হালাল পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বাড়াবে।
মন্ত্রী বলেন, হালাল শিল্পকে শুধু ধর্মীয় চাহিদার আলোকে দেখলে এর প্রকৃত সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো সম্ভব হবে না। গুণমান, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যবিধি, নৈতিকতা ও ভোক্তার আস্থার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে এ শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হবে।
তিনি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, জ্ঞান ও ব্যবসায়িক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে সক্ষমতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশের বৃহৎ বাজার ও উৎপাদন সক্ষমতার পাশাপাশি দক্ষ উদ্যোক্তা ও বেসরকারি খাতের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা হালাল শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হতে পারে। মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ এ খাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারে।
তিনি বলেন, হালাল পণ্য ও সেবার বৈশ্বিক চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। তাই বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের শুধু অভ্যন্তরীণ বাজারের দিকে নজর না দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারকে লক্ষ্য করে উৎপাদন ও বিনিয়োগ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, যৌথ উদ্যোগ, প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময়, দক্ষতা উন্নয়ন, মান নির্ধারণ এবং আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য সনদ ব্যবস্থার উন্নয়ন বাংলাদেশের হালাল শিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে পারে।

সেমিনারে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার শুহাদা উথমান বাংলাদেশের হালাল শিল্পের সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, জ্ঞান ও ব্যবসায়িক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
তিনি জানান, ২০২৪ সালে বৈশ্বিক হালাল বাজারের আকার ছিল প্রায় ২ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২৯ সালের মধ্যে এ বাজার প্রায় ৩ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি গুণমান ও নিরাপদ পণ্যের প্রতি বৈশ্বিক ভোক্তাদের বাড়তি আগ্রহ এ বাজারের প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করছে।
সেমিনারে হালাল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন মালয়েশিয়া, বাংলাদেশ হালাল সার্টিফিকেশন বিভাগ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।











