পরিবর্তিত বাজারে টিকে থাকার নতুন কৌশল খুঁজছে ঢাকার শপিংমলগুলো, ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে ব্যবসায়ীরা


একসময় রাজধানী ঢাকার শপিংমলগুলো ছিল কেনাকাটা ও নগরজীবনের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। ঝলমলে আলোকসজ্জা, বাহারি পণ্যের সমাহার এবং ক্রেতাদের পদচারণায় মুখর থাকত এসব বিপণিবিতান। তবে সময়ের পরিবর্তনে রাজধানীর রাপা প্লাজা, ইস্ট প্লাজা, প্লাজা এয়ার, অর্কিড পয়েন্টসহ বিভিন্ন শপিংমলে ক্রেতা উপস্থিতি ও বিক্রির ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি কর্ণফুলী গার্ডেন সিটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়াও খুচরা বাণিজ্য খাতের পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, যথাযথ পরিকল্পনা ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে এসব শপিংমলের ব্যবসায়িক পরিবেশ আবারও প্রাণবন্ত করে তোলা সম্ভব।
বিশ্লেষকদের মতে, অনলাইন কমার্সের প্রসার, ফেসবুকভিত্তিক ব্যবসা, ফুটপাতের সাশ্রয়ী বাজার এবং মানুষের পরিবর্তিত কেনাকাটার অভ্যাস প্রচলিত শপিংমলগুলোর ওপর প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে অনেক ক্রেতা অতিরিক্ত কেনাকাটায় ব্যয় কমিয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে, দোকানভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, জেনারেটর খরচ ও কর্মচারীদের বেতনসহ পরিচালন ব্যয় ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
রাজধানীর শান্তিনগর-কাকরাইল মোড়ে ১৯৯৮ সালে যাত্রা শুরু করা কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ছিল। তবে ক্রেতাসংকট ও আর্থিক চাপের কারণে গত ১ অক্টোবর থেকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ঘটনা অন্যান্য শপিংমলের জন্য সময়োপযোগী ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ও আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি দোকান মালিক ও মার্কেট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে দোকানভাড়া ও সার্ভিস চার্জ যৌক্তিক পর্যায়ে আনা, সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা এবং পরিচালন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ ব্যবসায়ীদের ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে দোকানগুলোকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করে ডিজিটাল বিপণন সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করা জরুরি।
শপিংমলগুলোতে উন্নত নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, পর্যাপ্ত পার্কিং, ফুডকোর্ট, শিশুদের বিনোদনব্যবস্থা এবং পারিবারিক কেনাকাটার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়তে পারে। পাশাপাশি ঈদ, পূজা ও অন্যান্য উৎসব উপলক্ষে বিশেষ ছাড়, পণ্য প্রদর্শনী এবং আকর্ষণীয় আয়োজনের মাধ্যমে শপিংমলগুলোতে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী শপিংমলগুলো শুধু কেনাকাটার স্থান নয়; এগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে হাজারো ব্যবসায়ী, কর্মচারী ও পরিবারের জীবন-জীবিকা। তাই এই খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ, ব্যবসায়ী সংগঠনের সহযোগিতা এবং আধুনিক ব্যবসায়িক কৌশলের সমন্বয় প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে বলা যায়, চ্যালেঞ্জ থাকলেও ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শপিংমলগুলোর সম্ভাবনা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। সময়োপযোগী পরিকল্পনা, প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নত ক্রেতাসেবা এবং ব্যবসায়ীদের জন্য সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে এসব বিপণিবিতান আবারও রাজধানীর প্রাণবন্ত বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।











