নারী ও শিশু সুরক্ষা ও উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান UNFPA-এর


মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপির সঙ্গে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA)-এর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ Catherine Breen Kamkong সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রীর অফিস কক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব ড. রওশন আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি, নারী শিক্ষা, জেন্ডার সমতা অর্জন, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, পারিবারিক সহিংসতা, কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য, মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি (MCBP), ডিএনএ ল্যাব, ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (OCC), শিশু অধিকার সুরক্ষা, শিশুশ্রম নিরসন, অনলাইন প্রযুক্তির অপব্যবহার প্রতিরোধ, সাইবার বুলিং এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী UNFPA-কে বাংলাদেশের একজন বন্ধুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করেন। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের উন্নয়নে UNFPA-এর সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে UNFPA-এর উন্নয়ন ও কারিগরি সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
মন্ত্রী মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত অত্যাধুনিক ডিএনএ ল্যাবরেটরির কার্যক্রম সম্পর্কে UNFPA-এর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভকে অবহিত করেন। তিনি জানান, বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং নারী ও শিশুদের আইনি সুরক্ষা আরও সুদৃঢ় করতে সরকার পর্যায়ক্রমে বিভাগীয় পর্যায়ে ডিএনএ ল্যাবের কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
এ কার্যক্রম দ্রুত ও সফলভাবে বাস্তবায়নে UNFPA-এর কারিগরি ও জ্ঞানগত সহায়তা কামনা করেন মন্ত্রী। জবাবে UNFPA-এর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রী আরও জানান, বাল্যবিবাহসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে কিশোর-কিশোরী ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এসব ক্লাবের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তন ও সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সাক্ষাৎকালে Catherine Breen Kamkong বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও নারী অধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ ও অঙ্গীকারের প্রশংসা করেন। তৃণমূল পর্যায়ে বাল্যবিবাহ সম্পূর্ণভাবে দূর করতে স্থানীয় ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় UNFPA-এর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ আসন্ন ‘আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস’ এবং এ উপলক্ষে ১৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি সম্পর্কে মন্ত্রীকে বিস্তারিত অবহিত করেন। জবাবে মন্ত্রী দিবসটির কর্মসূচি শুধু রাজধানী ঢাকায় সীমাবদ্ধ না রেখে জেলা ও তৃণমূল পর্যায়েও সম্প্রসারণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাতের শেষ পর্যায়ে দেশের তৃণমূল পর্যায়ের নারীদের তৈরি ঐতিহ্যবাহী ও হস্তশিল্প পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি এবং নারী উদ্যোক্তাদের যুগোপযোগী বিপণন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর সহযোগিতা কামনা করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী।











