June 20, 2026

শিরোনাম

নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের নতুন ধাপ শুরু

Image

ডিপ্লোম্যাটিক ডেস্কঃ

দুই দেশের মধ্যে আঞ্চলিক জ্বালানি সহযোগিতার ক্রমবর্ধমান গতিকে তুলে ধরে, নেপাল থেকে বাংলাদেশে আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের নতুন মৌসুমের সূচনা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন, ২০২৬) সন্ধ্যায় ঢাকায় অবস্থিত নেপাল দূতাবাসের উদ্যোগে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানটিতে আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ বাণিজ্যের গুরুত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি সহযোগিতার প্রসারিত সম্ভাবনার উপর আলোকপাত করা হয়, বিশেষ করে বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং নেপালের বিশাল জলবিদ্যুৎ সম্ভাবনার প্রেক্ষাপটে।

স্বাগত বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি নেপাল ও বাংলাদেশের মধ্যকার বহুমুখী সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিদ্যুৎ সরবরাহের সূচনা কেবল একটি অর্থনৈতিক মাইলফলকই নয়, বরং একটি সবুজতর ও অধিক টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের প্রতি একটি যৌথ অঙ্গীকারও বটে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং নেপালের নবায়নযোগ্য জলবিদ্যুৎ সম্পদের মধ্যেকার পরিপূরকতা এই অংশীদারিত্বকে স্বাভাবিক এবং পারস্পরিকভাবে লাভজনক করে তুলেছে।

একটি ভিডিও বার্তায় নেপালের জ্বালানি, পানিসম্পদ ও সেচমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠা ২০২৪ সালে বিদ্যুৎ প্রবাহের ঐতিহাসিক সূচনার কথা স্মরণ করেন এবং আগামী বছরগুলোতে দ্বিপাক্ষিক জ্বালানি সহযোগিতা আরও প্রসারিত হবে বলে আস্থা প্রকাশ করেন। তিনি একটি শক্তিশালী ও দীর্ঘমেয়াদী আঞ্চলিক জ্বালানি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার জন্য আরও জোরালো সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সংসদ সদস্য আবদুল মঈন খান এ বছর আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ বিনিময় অব্যাহত থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জ্বালানি খাতে নেপালের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণের জন্য উন্মুখ এবং সমন্বিত জ্বালানি নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ বাণিজ্যের জন্য একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক কাঠামোর স্বপ্ন দেখে।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী রেজা উল্লেখ করেন যে, এই উদ্যোগটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক শক্তিশালী করার প্রতীক এবং জ্বালানি খাতে আঞ্চলিক সহযোগিতার উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনাকে তুলে ধরে। তিনি অভিন্ন জ্বালানি লক্ষ্য অর্জনে নেপাল ও অন্যান্য আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

এই অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন নীতিনির্ধারক, সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী নেতা এবং গণমাধ্যম ও জ্বালানি খাতের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়েছিলেন, যা দক্ষিণ এশিয়ায় টেকসই আন্তঃসীমান্ত জ্বালানি সংযোগের প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহের প্রতিফলন ঘটায়।

Scroll to Top