June 9, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • আন্তর্জাতিক
  • বিমস্টেক আরও গতিশীল আঞ্চলিক সংগঠন হিসেবে আবির্ভূত হতে চলেছে: বিমস্টেক মহাসচিব ইন্দ্র মণি পান্ডে

বিমস্টেক আরও গতিশীল আঞ্চলিক সংগঠন হিসেবে আবির্ভূত হতে চলেছে: বিমস্টেক মহাসচিব ইন্দ্র মণি পান্ডে

Image

ডিপ্লোম্যাটিক ডেস্ক:

বঙ্গোপসাগরীয় বহুখাতভিত্তিক কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগ (BIMSTEC)-এর ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার (৮ জুন ২০২৬) ঢাকায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডের মন্ত্রী, রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এমপি। তিনি বলেন, “বিমসটেক দিবসের এ উদযাপনে অংশ নিতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সরকার ও জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।”

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে আঞ্চলিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। “বাংলাদেশ ফার্স্ট” নীতির আলোকে সরকার জাতীয় উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সার্বভৌম সমতা এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রায় তিন দশকের পথচলায় বিমসটেক দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে একটি অনন্য সেতুবন্ধনে পরিণত হয়েছে, যা ১৮০ কোটিরও বেশি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ বর্তমানে বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে সংগঠনটির প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণ ও কৌশলগত পরিকল্পনায় সক্রিয় নেতৃত্ব দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

তিনি ব্যাংকক ভিশন-২০৫০, বিমসটেকের কার্যবিধি এবং এমিনেন্ট পারসনস গ্রুপের প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে বলেন, এসব উদ্যোগ সংগঠনটিকে আরও কার্যকর, নিয়মভিত্তিক ও ফলাফলমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের পথনকশা তৈরি করেছে।

শামা ওবায়েদ ইসলাম সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তি হস্তান্তর, সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালীকরণ এবং রপ্তানি বাজার বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি দ্রুত বিমসটেক ফ্রি ট্রেড এরিয়া (FTA) চূড়ান্ত করার আহ্বান জানান।

এছাড়া সড়ক, রেল, বন্দর, নৌপথ, বিমান যোগাযোগ, বিদ্যুৎ গ্রিড ও ডিজিটাল অবকাঠামোসহ বহুমাত্রিক সংযোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, পর্যটন, যুবসম্পৃক্ততা ও ক্রীড়া কূটনীতি আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে।

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ এমন একটি কার্যকর, দৃশ্যমান ও জনগণমুখী বিমসটেক দেখতে চায়, যা শুধু বক্তব্যে নয়, বাস্তব ফলাফলে বিশ্বাসী।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তব্য দেন বিমসটেকের মহাসচিব ইন্দ্র মণি পান্ডে। তিনি বলেন, “বিমসটেক দিবসের ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে আপনাদের স্বাগত জানাতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আগামী বছর সংগঠনটির ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বছরব্যাপী উদযাপনের আনুষ্ঠানিক সূচনাও আজকের অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।”

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৯৭ সালের ৬ জুন ব্যাংকক ঘোষণার মাধ্যমে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডের উদ্যোগে বিমসটেকের যাত্রা শুরু হয়। এরপর থেকে সংগঠনটি নিরাপত্তা ও উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

মহাসচিব বলেন, বিমসটেকের চার্টার এবং ব্যাংকক ভিশন-২০৩০ সংগঠনটির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করেছে। বর্তমানে ১৮টি খাতে সহযোগিতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং বিভিন্ন যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ, বিশেষজ্ঞ দল ও উপদল এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে কাজ করছে।

তিনি বলেন, “বিমসটেক তার মূল লক্ষ্য—প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ওপরই গুরুত্ব দিয়েছে এবং রাজনৈতিক বিষয়গুলোকে এজেন্ডার বাইরে রেখেছে। ফলে এটি দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার একটি উজ্জ্বল উদাহরণে পরিণত হয়েছে।”

ইন্দ্র মণি পান্ডে জানান, বিমসটেক বর্তমানে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (ITU), বিশ্ব মেধাস্বত্ব সংস্থা (WIPO), খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO), এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB), বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।

তিনি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আরও শক্তিশালী, ফলাফলমুখী ও জনগণকেন্দ্রিক বিমসটেক গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং বিমসটেক সচিবালয়কে সার্বিক সহায়তা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য এবং ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের এ সময়ে বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও সংহতি আরও জোরদার করা জরুরি। তারা একটি শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও সংযুক্ত বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চল গঠনে যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

Scroll to Top