ডিপ্লোম্যাটিক ডেস্কঃ
গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ১০ম বার্ষিকী উপলক্ষে নিহতদের স্মরণে ঢাকায় ইতালি দূতাবাস আয়োজিত স্মরণসভা অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সবসময়ই শক্ত অবস্থানে রয়েছে। হলি আর্টিজান হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা হয়েছে এবং জঙ্গিবাদ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ বৈশ্বিক সন্ত্রাসবিরোধী প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

বুধবার (১ জুলাই, ২০২৬) ঢাকায় ইতালি দূতাবাস আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং সহিংস উগ্রবাদ প্রতিরোধ ও দমনে বাংলাদেশের অব্যাহত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
২০১৬ সালের ১ জুলাই সংঘটিত হামলায় নিহত ২৪ জনের—যাদের মধ্যে ৯ জন ইতালির নাগরিক ছিলেন—স্মরণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন বাংলাদেশে ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো।

অনুষ্ঠানে ইতালির রাষ্ট্রপতি Sergio Mattarella-এর একটি বার্তা পাঠ করে শোনান রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো। রাষ্ট্রপতির বার্তায় বলা হয়, “সন্ত্রাসীরা বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘৃণা ও বিভেদ সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। কিন্তু তার পরিবর্তে আরও দৃঢ় সংহতি, পারস্পরিক সংলাপের গুরুত্ব সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি এবং সহিংসতার বিরুদ্ধে সম্মিলিত অঙ্গীকার আরও শক্তিশালী হয়েছে।”

রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো তার বক্তব্যে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নিহত ইতালীয় উদ্যোক্তা ও বেসরকারি খাতের পেশাজীবীদের অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, জাতীয়তা ও ধর্ম নির্বিশেষে হামলায় নিহত সকলের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই প্রতিবছর এই স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে জাপান, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রসহ নিহতদের বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা, বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, নিহতদের স্বজন, হামলা থেকে জীবিত ফিরে আসা জিম্মি এবং বাংলাদেশে বসবাসরত ইতালীয় সম্প্রদায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় বাংলাদেশে ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো, জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি, ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী, ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, নিহতদের স্বজন এবং হামলা থেকে বেঁচে ফেরা জিম্মিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা ফুল দিয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং মর্মান্তিক এ ঘটনার স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় ২২ জন জিম্মি নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ৯ জন ইতালির, ৭ জন জাপানের, ১ জন ভারতের এবং ৩ জন বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন। এছাড়া একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকও নিহত হন। হামলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তাও শহীদ হন। এই নৃশংস হামলা বিশ্বজুড়ে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচিত হয়।











