ডিপ্লোম্যাটিক ডেস্কঃ
International Wellness Day উপলক্ষে ঢাকায় বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) সকালে এক বর্ণাঢ্য ‘ওয়েলনেস ওয়াক’ কর্মসূচির আয়োজন করেছে নেপাল দূতাবাস। ‘Harmony with Mind, Body, and Nature’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল ওয়েলনেস ডে সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ব্যক্তি ও প্রকৃতির মধ্যে ভারসাম্য ও সামঞ্জস্যের গুরুত্ব তুলে ধরা।
অনুষ্ঠানে ৪৫ মিনিটের একটি পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিক পর্ব এবং নেপালি ঐতিহ্যবাহী ‘ওয়েলনেস ব্রেকফাস্ট’ পরিবেশন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নেপাল রাষ্ট্রদূত Ghanshyam Bhandari। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ ও সংঘাত, অর্থনৈতিক বৈষম্য, সামাজিক বিভাজন এবং জলবায়ু সংকটসহ নানা চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে ওয়েলনেসের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। তিনি নেপালের ইতিহাস ও সভ্যতায় নিহিত শতাব্দীপ্রাচীন হিন্দু, বৌদ্ধ, যোগ এবং আদিবাসী জীবনধারাভিত্তিক চর্চার কথা তুলে ধরেন, যা আত্মনিয়ন্ত্রণ, নৈতিক জীবনযাপন এবং প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে।

রাষ্ট্রদূত Ghanshyam Bhandari আরও জানান, নেপাল সরকার ২০২৭ সালকে ‘নেপাল ওয়েলনেস ইয়ার’ হিসেবে পালনের পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মাধ্যমে ওয়েলনেস ট্যুরিজমকে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি, নেপালকে বৈশ্বিক ওয়েলনেস হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশার কথাও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে অতিথিদের জন্য পরিবেশন করা হয় নেপালি অর্গানিক খাবার, যার মধ্যে ছিল মিলেট প্যানকেক, ব্ল্যাক লেন্টিল প্যানকেক, বাকহুইট মোমো এবং সতুকো শরবতসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাদ্য।

উল্লেখ্য, United Nations General Assembly গত ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখে একটি প্রস্তাব গ্রহণের মাধ্যমে ১৫ এপ্রিলকে আন্তর্জাতিক ওয়েলনেস ডে হিসেবে ঘোষণা করে। এ প্রস্তাবে নেপাল নেতৃত্ব প্রদান করে এবং এটি ৪০টি দেশের সহ-উদ্যোগে ১৪৩টি সদস্য রাষ্ট্রের সমর্থন পায়।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, মিশনপ্রধান, কূটনীতিক, সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ নেপালি কমিউনিটির সদস্য এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।











