June 2, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • আন্তর্জাতিক
  • জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হলেন ড. খলিলুর রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হলেন ড. খলিলুর রহমান

Image

ডিপ্লোম্যাটিক ডেস্কঃ

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার (২ জুন ২০২৬) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের ভোটে তিনি বিজয়ী হন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নির্বাচনে ড. খলিলুর রহমান ৯৯ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থী পেয়েছেন ৯১ ভোট।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই বিজয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতি জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আস্থা, গ্রহণযোগ্যতা এবং ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক প্রভাবের সুস্পষ্ট প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি বহুপাক্ষিক কূটনীতি, শান্তি, উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সরকারের মতে, এই সাফল্যের পেছনে তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে— তারেক রহমান-এর নেতৃত্ব ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত, সীমিত সময়ে বাংলাদেশের সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং ড. খলিলুর রহমানের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় এ নির্বাচনের জন্য হাতে ছিল মাত্র তিন মাস। ওই স্বল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশকে এমন একটি বৈশ্বিক কূটনৈতিক প্রচারণা পরিচালনা করতে হয়েছে, যা সাধারণত কয়েক বছরব্যাপী প্রস্তুতির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ এবং বহুপাক্ষিক ফোরামে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সমর্থন অর্জনে সক্ষম হয়।

বাংলাদেশ ২০২০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউএনজিএ সভাপতি পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করলেও ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ড. খলিলুর রহমানকে আনুষ্ঠানিক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এরপর থেকেই পূর্ণমাত্রার প্রচারণা শুরু হয়।

অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ সাইপ্রাস ২০১৬ সালেই তাদের প্রার্থিতা ঘোষণা করে এবং প্রায় এক দশক ধরে ধারাবাহিক প্রচারণা চালিয়ে আসছিল।

প্রচারণা কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। এ ছাড়া নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত কূটনৈতিক মিশনগুলো সমর্থন আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

নির্বাচনী প্রচারণার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছিল গত ১৩ মে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ড. খলিলুর রহমানের ইন্টারঅ্যাকটিভ ডায়ালগ। প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী ওই সংলাপে তিনি তার ভিশন স্টেটমেন্ট উপস্থাপন করেন এবং নির্বাচিত হলে সাধারণ পরিষদ পরিচালনায় অগ্রাধিকার ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। কূটনৈতিক মহলে তার এই উপস্থাপনা ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে এবং পরবর্তীতে প্রায় ৩০টি দেশ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন জানায়।

বাংলাদেশের প্রচারণায় কার্যকর বহুপাক্ষিকতা, জাতিসংঘের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ সংরক্ষণ, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্রগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়ন, শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অবদান এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের কণ্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়।

সরকার এই ঐতিহাসিক বিজয়ের জন্য জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে এবং জাতিসংঘের মূলনীতি ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

Scroll to Top