নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নেওয়া নৈতিক দায়িত্ব: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম


নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা (Women, Peace and Security—WPS) এজেন্ডা এগিয়ে নেওয়া শুধু বৈশ্বিক অঙ্গীকার নয়, এটি একটি নৈতিক দায়িত্ব এবং সবার যৌথ দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘Developing Bangladesh’s New-Generation National Action Plan on WPS’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নেওয়া শুধু বৈশ্বিক অঙ্গীকার নয়, এটি একটি নৈতিক দায়িত্ব এবং আমাদের সবার যৌথ দায়িত্ব। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমে এই এজেন্ডাকে এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজোলিউশন ১৩২৫ বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অগ্রণী ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে জাতিসংঘ নারী (UN Women)-এর সহায়তায় ২০১৯-২০২৫ মেয়াদের প্রথম জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (NAP) পর্যালোচনার চলমান প্রক্রিয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
প্রতিমন্ত্রী নারী ও কন্যাশিশুর শিক্ষা ও ক্ষমতায়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলোর কথা স্মরণ করেন। পাশাপাশি বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের শিক্ষা, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, কর্মসংস্থান, নারীর নিরাপত্তা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াক্ষেত্রে নারীদের অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করার বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বাংলাদেশের জন্য দ্বিতীয় পাঁচ বছর মেয়াদি জাতীয় কর্মপরিকল্পনাটি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, বাস্তবসম্মত ও পরিমাপযোগ্য করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রওসান আরা বেগম বলেন, পরবর্তী প্রজন্মের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা যথাযথভাবে প্রণয়ন, পর্যাপ্ত অর্থায়ন ও কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে পরিকল্পনাটি যেসব নারীর জন্য তৈরি হবে, শেষ পর্যন্ত তাদেরই এই উদ্যোগের মালিকানা নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশে জাতিসংঘ নারীর প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিং স্বাগত বক্তব্যে বলেন, শক্তিশালী WPS ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। এ ক্ষেত্রে কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়ন, নারীর নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ, পরিমাপযোগ্য ফলাফল এবং জবাবদিহিতার ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও UN Women Bangladesh যৌথভাবে দুই দিনব্যাপী এই কর্মশালার আয়োজন করেছে। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর কর্মশালাটি শেষ হবে।
কর্মশালায় আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় গ্রুপের সদস্য এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। পরিবর্তিত জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের পরবর্তী প্রজন্মের নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা কাঠামো প্রণয়নে তাদের মতামত ও সুপারিশ গ্রহণের জন্য কর্মশালাটি একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।











